ঈদের ছুটিতে সাজেক ও রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সাজেকসহ রাঙামাটির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা রাঙামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। অনেকে আবার ইঞ্জিনচালিত বোটে কাপ্তাই লেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আজ শনিবার বিকেলে রাঙামাটির পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের ভিড়। এ সময় অনেকে সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ কেউ ঝুলন্ত সেতুর পাশ থেকে ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে বেড়াতে যাচ্ছেন।
ঝুলন্ত সেতুর পাশাপাশি পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, রাঙাদ্বীপ, আসামবস্তি ব্রিজ, আসামবস্তি–কাপ্তাই সংযোগ সড়ক এবং কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক রিসোর্ট ও কটেজগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় রয়েছে। অন্যদিকে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের উপস্থিতি দেখা যায়।
ফেনী থেকে বেড়াতে আসা খোরশেদ আলম, সোহেল রানা ও হাবিব বলেন, বন্ধুরা মিলে প্রথমবার রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে ঘুরতে এসেছি। আগে ফেসবুকে ঝুলন্ত সেতুর ছবি দেখতাম, এখন নিজ চোখে দেখে অনেক ভালো লাগছে। রাঙামাটি সত্যিই অনেক সুন্দর।

ঢাকা থেকে আসা খালেদ মাহমুদ বলেন, আমি এর আগেও একবার রাঙামাটি এসেছিলাম বর্ষাকালে, তখন লেকে পানি বেশি ছিল। এখন পানি কিছুটা কম, তারপরও জায়গাটা দারুণ সুন্দর। এক পাশে লেক, আরেক পাশে পাহাড়। সারাদিন বোটে লেক ঘুরে ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছি।
পর্যটন বোট ঘাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বর্তমানে প্রায় ৪০টি ট্যুরিস্ট বোট লেকে চলাচল করছে। গত ২ দিনের তুলনায় আজ সারা দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বোট ভাড়া হয়েছে। আজ তৃতীয় দিনে পর্যটকের সংখ্যা ভালোই বেড়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবপস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আজ ঈদের তৃতীয় দিনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক ঝুলন্ত সেতুতে ভ্রমণ করেছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনে ১ হাজার ৮০০ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। গত ২ দিনের তুলনায় আজ পর্যটকদের সংখ্যা বেশি। এছাড়া আমাদের হোটেলে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে জুনের ১ তারিখ পর্যন্ত।
এদিকে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনে এই পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুর্পণ দেব বর্মণ।
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, গত ২ দিনের তুলনায় আজ সাজেকের শতভাগ রিসোর্ট ও কটেজ বুকিং হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ১২৫টি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে, যেগুলো সবই পূর্ণভাবে বুক করা হয়েছে।