উৎসে কর বেশি কাটা হলে ফেরত দেওয়া হবে

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

কোনো করদাতার বার্ষিক পরিশোধযোগ্য আয়করের চেয়ে উৎসে কেটে নেওয়া কর বেশি হলে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আয়কর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিষয়ে প্রস্তাবনার সময় তিনি এ প্রস্তাবনা দেন।

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি করদাতাদের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে কোম্পানি করদাতাদের করপোরেট রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের ব্যবস্থা করা হবে।’

করদাতারা বছরব্যাপী রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বছরের শুরুর দিকে রিটার্ন দাখিল করলে কর প্রণোদনা পাবেন।’

সেইসঙ্গে ‘করদাতার উৎসে কর নিরূপিত করের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাবেন। এ রিফান্ড হবে অটোমেটেড ও ফেসলেস।’

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন করযোগ্য আয় কম থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত কর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা ব্যবসায় পুঁজির সংকট তৈরি করতো। সরকার এই বিধান বাতিল করে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার আন্তর্জাতিক বিধান চালু করছে।’

উৎসে কেটে নেওয়া অতিরিক্ত কর ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ‘কর ব্যবস্থার ন্যায্যতা’ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

আয়কর ও ভ্যাট অডিটের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উৎসে কর কর্তন না করার কারণে করদাতার দাবিকৃত খরচ অনুমোদন না করার বিদ্যমান বিধান বাতিল করার প্রস্তাব করছি। ব্যবসা খাতের আয় পরিগণনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে অ্যাকুরাল ভিত্তিক সুদ ব্যয় অনুমোদনের বিধান করার প্রস্তাব করছি।’

করদাতাদের কর দায় কমাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পারকুইজিট, আপ্যায়ন ব্যয়, ফ্রি স্যাম্পল বাবদ খরচ ও প্রচারণামূলক খরচ অনুমোদনের সীমার মতো আবশ্যিক খরচের সীমা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবও করেছেন অর্থমন্ত্রী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের চেয়ে এটি ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।