মুরগির বাজার চড়া, নিম্নআয়ের মানুষের কপালে ভাঁজ
নিম্নআয়ের পরিবারে একটু ভালো খাবার মানেই ব্রয়লার মুরগি। সেই সঙ্গে এটি প্রোটিনের অন্যতম উৎস। সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে এতে আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পোল্ট্রির চাহিদা বেড়েছে, তবে সে অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ বাড়েনি।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুসারে, গতকাল ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। এক হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩২ টাকা।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম এমন সময়ে বেড়েছে, যখন সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে নয় দশমিক ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
‘ঈদ যত কাছে আসবে, মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে,’ বলেন কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী বশির শেখ।
কাপ্তান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, গত সপ্তাহজুড়ে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজিতে দাম প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে। খামারিরা বলছেন, একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বেড়েছে।
কয়েক দিন আগে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেড়ে ১০০টি ডিমের দাম ৮০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে এখন দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। তিনি আরও জানান, গতকাল ১০০টি ডিম বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়।
সাভারের কালমা এলাকার খামারি আকরাম হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই একদিন বয়সী বাচ্চা মুরগির দাম ২০-২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৯০ টাকায় উঠেছে। এত বেশি দামে বাচ্চা মুরগি কিনে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
‘এই ঈদ মৌসুমে আমি পুরোপুরি বেকার হয়ে গেছি।’ আকরাম জানান, এখন সংসার চালানোও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, রমজান ও ঈদের আগে একদিন বয়সী বাচ্চা মুরগির দাম হঠাৎ করে ৩০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা বেড়ে ৯০-৯৫ টাকা হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে একদিকে ছোট খামারিরা তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভোক্তাদেরও বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে।
কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ডিমের উৎপাদন স্থিতিশীল না। কারণ খামারিরা পুরোনো মুরগি বিক্রি করলে বা নতুন মুরগি ডিম দেওয়া শুরু করলে সরবরাহের পরিবর্তন হয়।
ভোক্তাদের চাহিদাও একেক সময় একেক রকম থাকে। শীতকালে মানুষ মৌসুমি সবজিতে বেশি কেনে এবং ডিম বিক্রি তুলনামূলক কমে যায়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন সরবরাহ বেশি থাকায় ডিমের দাম কম ছিল। সম্প্রতি উৎপাদন কমে যাওয়া বা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হয়তো দাম বেড়েছে।
মাত্র এক সপ্তাহে মুরগির দাম এতটা বেড়ে যাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় ধাক্কা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনমজুর সৌরভ মিয়া সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।