বিটিএসের টিকিট বিক্রি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত, তদন্ত করছে সিউল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের আসন্ন কনসার্টের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এক হাজার ৮৬৮টি কালোবাজারির তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বেশিরভাগ তালিকা পাওয়া গেছে সেকেন্ডহ্যান্ড অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সংখ্যায় কিছু ডুপ্লিকেট পোস্টও থাকতে পারে, কারণ তালিকা বিশ্লেষণের সময় আলাদা বিক্রেতা নয়, বরং আলাদা পোস্টের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অননুমোদিত মাধ্যমে টিকিট কিনলে ভক্তরা কনসার্টে হয়তো নাও ঢুকতে পারেন। কারণ আয়োজকরা কঠোর পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে।

২১ মার্চ গওয়াংহওয়ামুন কনসার্টের জন্য টিকিটিং ব্যবস্থা করা হয়েছে মোবাইল কিউআর কোডের মাধ্যমে। একবার স্ক্যান হলে এই কোড আর ব্যবহার করা যাবে না বা স্ক্রিনশট নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া কনসার্টে প্রবেশের সময় দর্শকদের সরকারি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং একটি বিশেষ নিরাপত্তা রিস্টব্যান্ড পরতে হবে, যা খুলে ফেললে আবার লাগানো যাবে না।

ভিতরে ঢোকার পরও আয়োজকেরা হঠাৎ পরিচয় যাচাই করতে পারে। কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

কনসার্টের আয়োজকেরা নিজেরাও অনলাইনে টিকিট বিক্রির পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। বুকিং নীতিমালা লঙ্ঘনের সন্দেহ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট টিকিট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, কালোবাজারি টিকিট কিনলে ভক্তদের অতিরিক্ত দাম দিতে হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগস্ট ২৮ থেকে কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে টিকিটের মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি টিকিট বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক অ্যান্টি-স্ক্যাল্পিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এই আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে মন্ত্রণালয় ৫ মার্চ একটি সরকারি–বেসরকারি টাস্কফোর্সও গঠন করেছে, যেখানে টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম, রিসেল মার্কেটপ্লেস এবং শিল্পখাতের সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

কর্তৃপক্ষ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কাজ করে সন্দেহজনক পোস্ট মুছে ফেলছে এবং সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ডগুলো ফিল্টার করার ব্যবস্থা করছে।

এদিকে ১২ মার্চ রাত ৮টায় নতুন করে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবারও কালোবাজারি বা প্রতারণা বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।