‘আমি খুশি এবং সুখী’
বাংলাদেশের একজন প্রবল দর্শকনন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিম। ছোট-বড় সবার কাছে প্রিয় তিনি।
বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে কলকাতার দর্শকদের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। অভিনয় গুণ দিয়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মোশাররফ করিমের ব্যস্ততা ঈর্ষণীয়। নাটক, ওটিটিতে সাফল্যের বরপুত্র বলা হয় তাকে। কম সিনেমা করেও প্রশংসিত হয়েছেন।
চলতি সময়ের অন্যতম সফল সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসায় ও প্রশংসায় ভাসছেন মোশাররফ করিম।
দ্য ডেইলি স্টারের সাথে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোশাররফ করিম কথা বলেছেন অভিনয় জীবন, বরিশালের ফেলে আসা জীবনসহ অনেক কিছু নিয়ে।
তার কাছে প্রথমেই জানতে চাই, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’সিনেমাটি এত সাড়া পাওয়ার মূল কারণ কী?
এর জবাবে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মৌলিক গল্প দেখতে চায়। মৌলিক গল্পকে তারা নিজেদের সিনেমা মনে করে। আমিও বিশ্বাস করি, মৌলিক গল্পের মধ্য দিয়ে এই দেশের মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখতে পায়।’
‘দীর্ঘদিন ধরে নাটকে অভিনয় করার ফলে অনেক কিছু জেনেছি। সেই হিসেবে বলতে পারি, দর্শকরা গল্প পছন্দ করেন। আমাদের নিজেদের গল্পকে তারা প্রাধান্য দেন’, বলেন তিনি।
বনলতা এক্সপ্রেসের সাফল্যের জন্য কাকে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান? এই প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে সত্যিকার অর্থে টিম হয়ে যাই আমরা। সাফল্যের পেছনে সবার কৃতিত্ব আছে।'
তিনি বলেন, ‘পরিচালক অনেক ভালো করেছেন। তানিম নূরের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম সিনেমা। যারা স্ক্রিপ্ট লিখেছেন তারাও ভালো করেছেন। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে পুরো সিনেমার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। সবার পরিশ্রমে কাজটি হয়েছে। কৃতিত্ব সবার।’
আপনার অভিনয়ের প্রশংসা চলছে সর্বত্র— এ বিষয়ে মোশাররফ করিম মন্তব্য করেন, ‘ বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা আনন্দের। আমি খুশি এবং সুখী। ভালো লাগছে অবশ্যই। দর্শকদের ভালোবাসা একজন শিল্পীর জন্য অনেক কিছু।’
সহশিল্পীদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক সহশিল্পী প্রশংসা করেছেন।
একজন সিনিয়র শিল্পী বনলতা এক্সপ্রেস দেখার পর আমাকে ফোন কথা বলেছেন। প্রশংসাও করেছেন। সিনেমা দেখার পর সিনিয়র সহশিল্পীর ভালোবাসা পেয়ে অ্যাওয়ার্ডের মতোই মনে হয়েছে।
হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমা। আপনি কি উপন্যাসটি পড়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। হুমায়ুন আহমেদ স্যারের লেখা নিয়ে কি বলব? বহু বছর ধরে তার লেখা পড়ি। তার লেখা পড়ে আধুনিক সাহিত্যে প্রবেশ করি। এর আগে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পড়তাম, আরও অনেকের লেখা পড়তাম। কিন্তু আধুনিক সাহিত্যে প্রবেশ তার বই পড়ে।’
মোশাররফ করিম বলেন, ‘হুমায়ুন আহমেদ স্যারের সব লেখা প্রিয়। তার গদ্য পছন্দ করি। তার লেখা উপন্যাসের সংলাপ অনেক শক্তিশালী। তার ছোট গল্পগুলো আরও প্রিয়।’
তিনি জানান, কিছুক্ষণ উপন্যাসের গল্পটা একটি ট্রেন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে হলেও এতে আরও অনেক কিছু আছে।
বাংলাদেশে মূলত ঈদকে ঘিরেই সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়। দুই ঈদেই বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা মুক্তি পায়।
এ বিষয়ে মোশাররফ করিম বলেন, ‘ধীরে ধীরে ঠিক হবে। আমি বিশ্বাস করি (বছরজুড়ে সিনেমা মুক্তি পাবে)। আমাদের তো হল কমে গেছে, হল বাড়ানো দরকার।’
‘আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ঈর্ষা, হিংসা না থাকলেই ভালো। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকা দরকার। সবাই মিলেই তো আমরা। বিনা কারণে কাউকে যেন কটাক্ষ করে না ফেলি, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ’, যোগ করেন মোশাররফ করিম।
এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী গল্পের বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নানান ধরনের সিনেমা হবে। যে সিনেমাই হোক, বাংলাদেশের মৌলিক গল্প নিয়ে যেন হয়। তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব। এখানে প্রত্যেকের সহযোগিতা দরকার। সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক দরকার।’
অনেক বছর পর এবার বরিশালে নিজের গ্রামের বাড়িতে ঈদ পালন করেন মোশাররফ করিম।
সেই অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানে কেউ থাকে না। এবার গেলাম অনেক দিন পর। ওখানে আবেগ জড়িয়ে আছে। নদীতে গোসল করেছি। বাড়ির কাছে ছোট নদী আছে। ওটা আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। ওই নদীতে গোসল করেছি, সাঁতার কেটেছি ছেলেবেলায়। কত শত স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার অনুভূতি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না, এতটাই ভালো লেগেছে যাওয়ার পর। পা রাখলেই ভালো লাগে। নিজের গ্রামে পা রাখলেই ভালো লাগে, শান্তি লাগে।’





