ঢাকাই সিনেমার ৭০ বছর: চার তারকার অনুভূতি

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল ‘মুখ ও মুখোশ’। আবদুল জব্বার খান পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমেই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের। দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্রটি উদ্বোধন করা হয় ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে।

সেই শুরু থেকে সাত দশকের পথচলায় ঢাকাই সিনেমা উপহার দিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্র, সৃষ্টি করেছে অসংখ্য তারকা, আর দর্শকের অন্যতম প্রধান বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলেছে নিজস্ব এক ঐতিহ্য।

মুখ ও মুখোশ মুক্তির ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের চারজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তাদের অনুভূতি জানিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারকে।

সুচন্দা

একসময় ঢাকাই সিনেমাকে স্বর্ণালি দিনের সিনেমা বলা হতো। গত ৭০ বছরে এই চলচ্চিত্রশিল্পে অসংখ্য ভালো কাজ হয়েছে, নির্মিত হয়েছে অনেক কালজয়ী ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা।

তবে শুরুটা করেছিলেন আবদুল জব্বার খান। তার হাত ধরেই ৭০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল মুখ ও মুখোশ। তিনি ছিলেন একজন বড় স্বপ্নবাজ মানুষ। সেই স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল বলেই তিনি এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। তার সেই উদ্যোগের কারণেই পরবর্তীকালে আমরা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এরপর একে একে আরও অসংখ্য মানুষ চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

এই গুণী মানুষটির প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল। তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

ববিতা

দেখতে দেখতে ঢাকাই সিনেমার পথচলার ৭০ বছর পূর্ণ হলো। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য আনন্দের একটি মুহূর্ত। আমার কাছে আনন্দটা আরও বেশি, কারণ আমিও এই চলচ্চিত্রশিল্পের একজন কর্মী।

আমি কতটুকু দিতে পেরেছি, কতটুকু করতে পেরেছি, সেটি দর্শকরাই মূল্যায়ন করবেন। তবে সব সময়ই ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি।

আজ এই দিনে মুখ ও মুখোশ পরিচালক আবদুল জব্বার খানকে অবশ্যই স্মরণ করতে হবে। তিনিই ইতিহাসের সূচনা করে গেছেন। ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে তার নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ৭০ বছর আগে তার দেখা একটি স্বপ্নই আজ বিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। তার প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।

রোজিনা

মুখ ও মুখোশ নির্মিত হয়েছিল বলেই আমরা আজ রূপালি পর্দায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সিনেমাটি নির্মিত না হলে হয়তো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প এত দূর এগোত কি না, সেটিই প্রশ্ন।

যিনি এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ৭০ বছর আগে কতটা আধুনিক ও দূরদর্শী মানসিকতার মানুষ হলে এমন একটি কাজ করা সম্ভব, তা ভাবলেই ভালো লাগে।

আবদুল জব্বার খানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তার হাত ধরেই এ দেশের চলচ্চিত্রের পথচলা শুরু হয়েছিল। তার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। নিজেকে আমি বড় শিল্পী বলতে চাই না; আমি নিজেকে চলচ্চিত্রের একজন কর্মী বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

গিয়াসউদ্দিন সেলিম

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূচনা হয়েছিল মুখ ও মুখোশ দিয়ে। এটি শুধু একটি সিনেমার মুক্তি ছিল না, ছিল একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা।

এই চলচ্চিত্রের পরই অনেক মানুষ চলচ্চিত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তবে সেই স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন আবদুল জব্বার খান। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অন্তরের গভীর থেকে তাকে স্মরণ করছি।