মৃত পুলিশ থেকে যন্ত্রমানব, ৪০ বছর পর ফিরছে ‘রোবোকপ’

স্টার অনলাইন ডেস্ক

একজন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খুন হলেন। গল্পটা সেখানেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু একটি ক্ষমতাধর করপোরেশন তাকে ফিরিয়ে আনল। তবে মানুষ হিসেবে নয়, অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক যন্ত্র হিসেবে। হাতে অস্ত্র, শরীরে লোহার বর্ম, আর মাথার ভেতর রয়ে গেল আগের জীবনের স্মৃতি। নাম তার রোবোকপ।

প্রায় ৪০ বছর পর সেই রোবোকপ আবার ফিরছে। এবার বড় পর্দায় নয়, আট পর্বের সিরিজ হয়ে অ্যামাজনের প্রাইম ভিডিওতে। অ্যালেক্স মারফি ও তার যন্ত্রমানব রূপ রোবোকপের চরিত্রে অভিনয় করবেন ড্যান স্টিভেন্স। 

রোবোকপের গল্পের শুরু ১৯৮৭ সালে, পরিচালক পল ভারহোভেনের সিনেমার মাধ্যমে। সেই সিনেমায় ডেট্রয়েটের পুলিশ কর্মকর্তা অ্যালেক্স মারফিকে হত্যা করে অপরাধীরা। পরে একটি ক্ষমতাধর করপোরেশন তার দেহকে ব্যবহার করে তৈরি করে অত্যাধুনিক পুলিশ যন্ত্র। সেই যন্ত্রই রোবোকপ।

‘ডাউনটন অ্যাবে’, ‘লিজিয়ন’ ও ‘দ্য গেস্ট’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত ড্যান স্টিভেন্স এবার সেই বিখ্যাত চরিত্রে অভিনয় করবেন। সিরিজটি পর্দায় আনার ক্ষেত্রে তার যুক্ত হওয়াকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রোবোকপকে শুধু ভবিষ্যতের এক পুলিশ রোবট বললে গল্পের আসল মজাটা বোঝা যাবে না। ১৯৮৭ সালের মূল সিনেমায় পিটার ওয়েলারের অভিনয়ে রোবোকপ যেমন অ্যাকশন আর সহিংসতায় ভরা ছিল, তেমনি ছিল তীক্ষ্ণ রসিকতা ও সামাজিক ব্যঙ্গও।

করপোরেট ক্ষমতা, পুলিশের বেসরকারিকরণ, ভোগবাদী সংস্কৃতি, সবকিছুকেই গল্পের ভেতর দিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যন্ত্রের শরীরে আটকে থাকা একজন মানুষের গল্পের আড়ালে আসলে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, মানুষকে কতটা বদলে দিলে সে আর মানুষ থাকে না। নতুন সিরিজেও মূল গল্পের কাঠামো অনেকটা একই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গল্পে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একটা শহরকে তাদের তৈরি অত্যাধুনিক যন্ত্র পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত করার জন্য রাজি করাবে। কিন্তু সেই যন্ত্রের ভেতর যে রয়েছে একজন মৃত পুলিশ কর্মকর্তার চেতনা, সেটাই হয়ে উঠবে গল্পের মূল বিষয়।

অর্থাৎ বাইরে থেকে সে একটা যন্ত্র। কিন্তু ভেতরে? সেখানে এখনো একজন মানুষ।

এই দ্বন্দ্বই রোবোকপের গল্পকে অন্য অনেক সায়েন্স ফিকশন গল্প থেকে আলাদা করে। করপোরেশন তাকে যতটা সম্ভব একটি পণ্যে পরিণত করতে চাইবে, আর তার ভেতরের মানুষটি বারবার ফিরে পেতে চাইবে নিজের পরিচয় ও অতীত।

সিরিজটির লেখক, শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন পিটার ওকো। ‘লজ ৪৯’-এর মতো সিরিজে কাজ করেছেন তিনি।

‘স’, ‘দ্য কনজ্যুরিং’ ও ‘অ্যাকুয়াম্যান’-এর নির্মাতা জেমস ওয়ানও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ব্লামহাউস অ্যাটমিক মনস্টারের হয়ে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও একটি কারণে নতুন সিরিজটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রোবোকপের মূল সিনেমার সহলেখক এড নিউমায়ারও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। ফলে প্রায় চার দশক আগের মূল গল্পের সঙ্গে নতুন সিরিজটির সরাসরি যোগসূত্র থাকছে।

রোবোকপের গল্পে মানুষ আর যন্ত্রের সম্পর্কের প্রশ্নটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন সিরিজটি এমন এক সময়ে আসছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবন।

তাই প্রায় ৪০ বছর আগের গল্পের প্রশ্নগুলোও নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। একটি যন্ত্র যদি মানুষের মতো চিন্তা করে, স্মৃতি ধরে রাখে কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাকে কি শুধু যন্ত্র বলা যায়? আর মানুষকে যদি প্রযুক্তি দিয়ে বদলে ফেলা হয়, তখন তার পরিচয় কোথায় গিয়ে শেষ হয়?

রোবোকপকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। পিটার ওয়েলার ১৯৯০ সালে ‘রোবোকপ ২’ সিনেমায় আবারও চরিত্রটিতে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালের ‘রোবোকপ ৩’-এ রোবোকপের ভূমিকায় দেখা যায় রবার্ট জন বার্ককে। পরে এই চরিত্র নিয়ে টেলিভিশন প্রযোজনাও হয়েছে।

২০১৪ সালে জোয়েল কিনাম্যানকে নিয়ে হলিউডে রোবোকপের নতুন সংস্করণও মুক্তি পায়।

এবারের প্রত্যাবর্তনের পেছনে অ্যামাজনের ২০২২ সালে এমজিএম অধিগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ওই চুক্তির মাধ্যমে অ্যামাজন এমজিএমের বিপুলসংখ্যক জনপ্রিয় সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজের স্বত্ব নিজেদের হাতে পায়।

তবে নতুন রোবোকপ সিরিজটি কবে দর্শকের সামনে আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বাকি অভিনয়শিল্পীদের নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।