আবার পেছাল মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিবাহবিচ্ছেদ মামলার শুনানি
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় ও তার স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদ মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি আদালতে শুনানিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় মামলা আপতত স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ আগস্ট।
এই ঘটনা কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বিজয়ের জনপ্রিয়তা, তার রাজনৈতিক উত্থান ও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বিজয় ও সঙ্গীতা ১৯৯৯ সালের আগস্টে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় তারা একসঙ্গে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন।
সূত্র অনুযায়ী, এর আগেও তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকেও ব্যক্তিগত আলোচনা অব্যাহত ছিল বলে দাবি করা হয়।
বিচ্ছেদ আবেদনে সঙ্গীতা বিশেষ বিবাহ আইন-১৯৫৪ অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছেন বলে জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া কিছু মিডিয়া প্রতিবেদনে একজন অভিনেত্রীর নাম নিয়ে জল্পনা ছড়ালেও, সেই ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলায় উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, বিজয় ও সঙ্গীতা দুজনই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
চেঙ্গালপাট্টু ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কোর্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ শুনানিতে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে আদালত মামলাটি পিছিয়ে দিয়েছে এবং নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ৭ আগস্ট।
অর্থাৎ, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং কোনো চূড়ান্ত রায় আসেনি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি জটিলতার পাশাপাশি বিজয়ের রাজনৈতিক জীবনও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল টিভিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে তার রাজনৈতিক পথও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে করুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে সিবিআই তদন্ত চলছে।
এছাড়া তিনি বর্তমানে নতুন সিনেমার মুক্তির অপেক্ষায় আছেন, যেখানে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে।