সাক্ষাৎকার

‘আমি কি সভ্যতার গোধূলিবেলার কবি?’: চীনে ওডিসি নিয়ে যা বললেন নোলান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বক্স অফিসে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র কাছে ‘দ্য ওডিসি’ শীর্ষস্থান হারালেও চলচ্চিত্র পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান খবরের শিরোনামেই আছেন। সম্প্রতি চীনে প্রচারমূলক সফরকালে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সিনেমাটির দার্শনিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সেখানে তিনি শিল্প, ইতিহাস, গল্প বলার কৌশল, আধুনিক চলচ্চিত্র সমালোচনা এবং তার শিগগিরই বিলিয়ন ডলার আয় করতে যাওয়া ব্লকবাস্টার দ্য ওডিসিতে খ্রিস্টীয় ‘প্রায়শ্চিত্ত’ ধারণার উপস্থিতি নিয়ে গভীর দার্শনিক আলোচনা করেছেন।

দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ে চীনা পডকাস্টার ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাষক ঝং শুর সঙ্গে এই সাক্ষাৎকার প্রথম প্রকাশিত হয় চীনের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলিতে। দ্য ওডিসির বিশ্বব্যাপী প্রচার সফরে নোলান যত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তার তুলনায় এটি ছিল একেবারেই ভিন্ন ধরনের।

এটি কোনো ‘গেম শো’ ছিল না। আবার শুটিংয়ের প্রিয় মুহূর্ত বা অভিনেতাদের নিয়ে মজার কোনো ঘটনা শোনার মতো সহজ বা তাড়াহুড়ো করে করা প্রশ্নও ছিল না। বরং ঝং শু বিরলভাবেই নোলানের ব্যক্তিগত দর্শন, বিশ্বদৃষ্টি এবং সেগুলো কীভাবে দ্য ওডিসি নির্মাণে প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করেন।

সাক্ষাৎকারটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। নিচে সাক্ষাৎকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

চীনা পডকাস্টার ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাষক ঝং শুর সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। ছবি: সংগৃহীত

‘সভ্যতার গোধূলিবেলার কবি’

ইংরেজিতে নেওয়া সাক্ষাৎকারের শুরুতে ঝং শু নোলানকে আধুনিক যুগের একজন ‘বার্ড’ বা মহাকাব্যিক গায়ক হিসেবে বর্ণনা করেন, যেমন প্রাচীন গ্রিসে ছিলেন হোমার।

তিনি বলেন, হোমারের মহাকাব্য যুদ্ধ ও বিজয়ের উদযাপন। কিন্তু নোলানের দ্য ওডিসি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি বর্তমান বিশ্বের প্রতিফলন।

এরপর ঝং শু পরিচালককে প্রশ্ন করেন, তার চলচ্চিত্রের এই সুরের কারণে তাকে কি ‘সভ্যতার গোধূলিবেলার একজন কবি’ বলা যায়?

হেসে নোলান জবাব দেন, ‘আমার মনে হয়, এটি খুবই আকর্ষণীয় একটি পর্যবেক্ষণ এবং খুবই চমৎকার একটি প্রশ্ন।

আপনার মন্তব্যের মূল বিষয়টি হলো, হোমার যে ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন এবং সেই গল্প যখন লেখা হয়েছিল কিংবা প্রথম পাঠক-দর্শকের কাছে পৌঁছেছিল, তার মধ্যে প্রায় ৪০০ বছরের ব্যবধান ছিল। এটি সত্যিই খুব আকর্ষণীয় একটি ব্যবধান।

দ্য ওডিসি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত 

আমার কাছে মনে হয় না, গল্প বলার ক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি হোমারের বিপরীত অবস্থানে আছি। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দ্য ওডিসি রূপান্তর করার সময় যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে, তা হলো—হোমার নিজের সময়েরও কয়েক শতাব্দী আগের একটি যুগের কথা লিখছিলেন।

তার পাঠকরা সেই অতীতের সভ্যতাকে নিজেদের চেয়ে উন্নত বলে মনে করতেন। অর্থাৎ তারা ছিল উত্থানশীল এক সভ্যতা, কিন্তু তারা আবার ৪০০ বছর আগের সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চাইছিল।

তাই এই চক্রাকার ধারণা অথবা আপনি যেভাবে বললেন, সভ্যতার গোধূলিবেলা—আমি মনে করি, তা কবিতার মধ্যেই আছে। খুব সূক্ষ্মভাবে হলেও তা উপস্থিত।

ইতিহাসের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যখন তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন প্রাসাদের বিশাল দেয়াল খুঁজে পেত, তখন সেগুলোকে বলত ‘সাইক্লোপীয় দেয়াল’। কারণ তাদের ধারণা ছিল, এত বিশাল দেয়াল কেবল কোনো দৈত্যই নির্মাণ করতে পারে। তাদের কাছে অতীতের সেই সভ্যতার মহত্ত্ব সম্পর্কে এমন একটি ধারণা ছিল।

আর সেই কারণেই আমি সেই পতনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি, যাকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগের পতন। ট্রয় যুদ্ধের ঘটনা এবং হোমারের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে আসলে কী ঘটেছিল, সেটিই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’

এরপর নোলান বলেন, ‘আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব বিষয় একইসঙ্গে ভীতিকর এবং আকর্ষণীয়। আমার ক্ষেত্রে এর একটি কারণ সম্ভবত “ওপেনহাইমার” নির্মাণ। কারণ সেটি মূলত পৃথিবীর সমাপ্তি, শেষ পর্যন্ত সভ্যতার পতন এবং ধ্বংস নিয়ে একটি চলচ্চিত্র। তাই হ্যাঁ, সেই অনুভূতি আমি অবশ্যই দ্য ওডিসির এই অভিযোজনেও নিয়ে এসেছি।’

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রের বিশ্ব প্রিমিয়ারে পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান ও প্রযোজক এমা থমাস। ৬ জুলাই, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

‘প্রায়শ্চিত্ত’ ধারণা

এরপর ঝং শু নোলানের চলচ্চিত্রে ‘প্রায়শ্চিত্ত’ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতি, ভাষা কিংবা হোমারের দ্য ওডিসি—কোনোটিতেই এ ধরনের ধারণা নেই।

তিনি সরাসরি নোলানকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি দ্য ওডিসিকে ‘খ্রিস্টীয় রূপ’ দিয়েছেন? আর যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে চলচ্চিত্রে প্রায়শ্চিত্ত এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কেন?

জবাবে নোলান বলেন, ‘দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি কীভাবে বিষয়টি দেখছি, তা নিয়ে খুব বেশি সচেতন ছিলাম না। তবে আমি বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছিলাম “জেনিয়া” নামে পরিচিত ধারণাটির ওপর।

সরলতার জন্য আমরা চলচ্চিত্রে একে “জিউসের আইন” বলেছি। কিন্তু মূলত এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ধারণা। আমি অন্যের সঙ্গে সেই আচরণ করব, যে আচরণ আমি নিজের জন্য প্রত্যাশা করি।

তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে এর কারণ হলো, আপনি যাকে দেখছেন, তিনি ছদ্মবেশী কোনো দেবতাও হতে পারেন।

আমি এই ধারণাটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করি। এরপর বুঝতে পারি, ইতিহাস ও পুরাণের সম্পর্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো তথাকথিত “সমুদ্রের মানুষ” ধারণা। ইতিহাসে ধারণা করা হয়, এই সমুদ্রগামী জনগোষ্ঠীই ব্রোঞ্জ যুগের পতনের অন্যতম কারণ ছিল।

বিলিবিলির স্টুডিওতে নোলান। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হলো—তারা আসলে কারা ছিল?

কিন্তু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই বিষয়টি যে, “জেনিয়া” বা “জিউসের আইন” লঙ্ঘনই আসল সমস্যা। প্রাসাদে পাত্ররা ঠিক সেটিই করছে। আর এই আইন ভঙ্গের কারণেই সব সংকট ও ধ্বংসের সূচনা হয়।’

নোলান আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, “প্রায়শ্চিত্ত” ধারণাটি এক অর্থে দর্শক হিসেবেই আমরা গল্পের মধ্যে নিয়ে আসি।

আমি নিশ্চিত নই, চলচ্চিত্রে সত্যিই প্রায়শ্চিত্ত আছে কি না। নাকি আমরা শুধু সেই আবেগঘন মুক্তির অনুভূতি অনুভব করি, কিংবা ওডিসিউস ও পেনেলোপির বহু প্রতীক্ষিত শেষ সাক্ষাতে যে প্রক্রিয়াটি দেখি, সেটিকেই প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করি।

আমার মনে হয়, এখানে আমরা হয়তো আমাদের আধুনিক মানসিকতাই গল্পের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি।

যদি চলচ্চিত্রে প্রায়শ্চিত্তের ধারণা থেকে থাকে, তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে দ্য ওডিসিকে খ্রিস্টীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা নয়। বরং “জিউসের আইন” ভাঙলে কী ঘটে—এই দার্শনিক প্রশ্নকে গভীরভাবে অনুসরণ করতে গিয়েই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে এসেছে।’

আধুনিক চলচ্চিত্র সমালোচনা, গল্প বলার কৌশল ও ‘ট্রোপ’

এরপর ঝং শু আবার হোমারের কবিতার প্রসঙ্গে ফিরে যান। তিনি বলেন, হোমারের কাব্য ইতিহাসের মহান মানুষদের উদযাপন করে।

এরপর তিনি নোলানকে প্রশ্ন করেন, আধুনিক দর্শকের সংবেদনশীলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার দ্য ওডিসি কি সেই ‘মহত্ত্বের’ জন্য এক ধরনের ক্ষমা চাওয়ার গল্প হয়ে উঠেছে?

তিনি জানতে চান, ‘দ্য ওডিসি কি এমন একটি গল্প, যা অনুতাপ, আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণের দাবি জানায়?’

উত্তরে নোলান বলেন, ‘গল্প বলার সময় আপনি সব সময় দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে এক ধরনের সংলাপে থাকেন।

অর্থাৎ গল্প যেমন নিজের শক্তি নিয়ে এগোয়, তেমনি দর্শকরাও তাদের নিজস্ব মানসিক শক্তি নিয়ে গল্পের কাছে আসেন।

কোনো চরিত্র নির্মাণের সময় চলচ্চিত্র নিয়ে একটি খুবই সাধারণ সমালোচনা হলো, চরিত্রটিকে অবশ্যই সহানুভূতিশীল করে তুলতে হবে। তাই চরিত্রকে বিভিন্নভাবে বদলে দেওয়া হয় বা তার আচরণ পরিবর্তন করা হয়।

আমার মতে, চলচ্চিত্র সমালোচনা কিংবা গল্প বিশ্লেষণের একটি মৌলিক দুর্বলতা এখানেই। কারণ কোনো গল্প কীভাবে কাজ করে, সেই প্রক্রিয়াটি শনাক্ত করতে পারলেই যে সেটি অকার্যকর হয়ে যায়, এমন নয়।

ভারতের মুম্বাইয়ে ‘দ্য ওডিসি’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে লালগালিচায় ভক্তদের সঙ্গে কথা বলছেন নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। ১১ জুলাই, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

আজকের সমালোচনায় এটিই বড় সমস্যা। অনেকের ধারণা, আমি বুঝতে পেরেছি গল্পটি কেন আমাকে প্রভাবিত করছে, তাই এটি কাজ করেনি।

কিন্তু গল্প বলার প্রক্রিয়া এভাবে কাজ করে না।

আমরা যখন কোনো বীর চরিত্র নির্মাণ করি, তখন দর্শক সেই চরিত্রের কাছে কী প্রত্যাশা নিয়ে আসছেন, তা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়। একইসঙ্গে আমাদের উদ্দেশ্য এবং দর্শকের গ্রহণ করার পদ্ধতির মধ্যকার সম্পর্কও বুঝতে হয়।

এই প্রক্রিয়াটি দর্শক শনাক্ত করতে পারলেই তা অকার্যকর হয়ে যায় না।

এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হলো—আমরা কি মহত্ত্বকে একটি পরম সত্য হিসেবে দেখব, নাকি আজকের আরও গণতান্ত্রিক ও আদর্শবাদী সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, যেখানে আমরা সবাইকে সমান হিসেবে দেখতে চাই?

তাহলে কি সেই মহত্ত্বের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে?

উত্তর হলো—হ্যাঁ, চাইতে হবে। নইলে দর্শক সেই মহত্ত্বকে গ্রহণ করবে না। এটিও গল্প বলার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

আবারও বলছি, দর্শক এই প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারছেন বলেই সেটি অকার্যকর হয়ে যায় না বা ব্যবহার করা উচিত নয়—এমনও নয়।’

সাক্ষাৎকারের পরের অংশে নোলান আবার আধুনিক চলচ্চিত্র সমালোচনা নিয়ে নিজের মন্তব্যে ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন চলচ্চিত্র সমালোচনার কথা বলছিলাম, তখন মূলত অপেশাদার সমালোচনার কথাই বলছিলাম, পেশাদার সমালোচনার নয়। কারণ পেশাদার সমালোচকরা সাধারণত এই গল্প বলার প্রক্রিয়াগুলোর প্রয়োজনীয়তা বোঝেন।

গত ১০০ বছরে হলিউড এমন একটি গল্প বলার ভাষা তৈরি করেছে, যা কার্যকরভাবে সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। এটি এখন নিজেই একটি ভাষা, আর বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ সেই ভাষা বুঝতে পারে। এটিই এর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক।

চীনে দর্শকদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন নোলান। ছবি: সংগৃহীত

এটি আধুনিক গল্প বলার একটি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষা এবং এর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। কিছু প্রচলিত রীতি আছে। আপনি চাইলে সেই রীতিগুলো ভাঙতে পারেন, বাঁকাতে পারেন, পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু পুরো সময়জুড়েই আপনাকে সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

আমি যখন বলি, মানুষ কোনো গল্পের প্রক্রিয়া শনাক্ত করতে পারলেই সেটিকে অকার্যকর মনে করে, তখন মূলত অপেশাদার সমালোচনার কথাই বলছি।

অবশ্য চলচ্চিত্রের ব্যাকরণ বা ভাষার কিছু উপাদানের ক্ষেত্রে সেটি সত্য হতে পারে। চলচ্চিত্রের ভাষাও সময়ের সঙ্গে বদলে যায়।

তাই কোনো ট্রোপ বা প্রচলিত কৌশল দর্শকের কাছে অতিরিক্ত পরিচিত হয়ে গেলে সেটিকে বদলে ফেলতে হয়।

কিন্তু আমরা চলচ্চিত্র নির্মাতারা সেই সাধারণ ভাষাটিই ব্যবহার করি। আমরা এই বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করি যে আমাদের দর্শকরা অনেক চলচ্চিত্র দেখেছেন এবং সেই ভাষা বোঝেন।

তাই আমরা সেই ভাষা নিয়েই খেলি। এটি ঘরানার ভাষা, দর্শকের সহানুভূতির ভাষা, স্পষ্টতার ভাষা, বর্ণনার দিকনির্দেশনার ভাষা, যার মাধ্যমে আপনি দর্শককে একটি গল্পের ভেতর দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান।’

এরপর নোলান গল্প বলার এই ‘প্রক্রিয়া’র উদাহরণ হিসেবে নিজের চলচ্চিত্র মোমেন্টোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি সম্পূর্ণভাবে শূন্য পাতা থেকে শুরু করতে পারেন না; সবকিছু ফেলে দেওয়াও সম্ভব নয়।

আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—আমি কীভাবে গল্পটিকে পরিচালিত করব?

মোমেন্টো চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

উদাহরণ হিসেবে বলি, আমার প্রথম দিকের একটি চলচ্চিত্র মোমেন্টো। সেখানে আমি গল্পটিকে উল্টো কালানুক্রমিক কাঠামোয় সাজিয়েছিলাম।

কিন্তু যেটি আমি অক্ষুণ্ন রেখেছিলাম, সেটি হলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও সহজ একটি তিন অঙ্কের কাঠামো।

ফলে দর্শক যখন চলচ্চিত্রটি দেখেন, তখন তার কাঠামো খুবই প্রচলিত ও পরিচিত মনে হয়। কিন্তু সময়ের ক্রমটি অপ্রচলিত।

এ ধরনের সিদ্ধান্তই একজন নির্মাতাকে নিতে হয়।

এটি এমন একটি উদাহরণ, যেখানে আপনি বলেন—ঠিক আছে, ভেতরের ভিত্তিটা খুব পরিচিত রাখব, যাতে ওপরের স্তরটিকে বদলে দিতে পারি।

আর এটাই এমন একটি প্রক্রিয়া, যা সব সময়ই পরিবর্তিত ও বিকশিত হতে থাকে।’