ফিরে দেখা: রুপালি পর্দায় পপি অভিনীত ১০ সিনেমা

জাহিদ আকবর
জাহিদ আকবর

ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পপি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধারার সিনেমাতেও নিজেকে মেলে ধরেছেন।

পপি ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ এই তিন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন।

May be an image of one or more people and people smiling

১৯৭৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলনায় জন্ম পপির। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। অভিনয় ও নৃত্যগুণে অল্প সময়েই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সামাজিক ও ভিন্নধারার গল্পেও কাজ করেছেন।

পপির ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য ১০টি সিনেমার কথা জেনে নিন।

কুলি

মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ পপির চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ওমর সানি। অভিষেকেই দর্শকের মনোযোগ কাড়েন পপি। সিনেমাটির সাফল্য তাকে ঢাকাই সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে।

বিদ্রোহ চারিদিকে

মুহম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’-তে পপির বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। অ্যাকশন ও সামাজিক আবহের গল্পে নির্মিত সিনেমাটিতে পপির অভিনয় ছিল ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি।

May be an image of one or more people and people smiling

কারাগার

পপির অভিনয়জীবনে বড় পরিবর্তন আনে ‘কারাগার’। কালাম কায়সার পরিচালিত সিনেমাটিতে তার বিপরীতে ছিলেন ফেরদৌস। চরিত্রের গভীরতা ও অভিনয়ের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান পপি।

মেঘের কোলে রোদ

নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘের কোলে রোদ’ পপির ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত সিনেমা। আবেগঘন গল্পে তার সংবেদনশীল অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। এই সিনেমার জন্য ২০০৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি।

No photo description available.

গঙ্গাযাত্রা

সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’ পপিকে অভিনয়ের দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়। ফেরদৌসের বিপরীতে অভিনয় করা এই সিনেমায় সামাজিক বাস্তবতার গল্পে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ২০০৯ সালে সিনেমাটির জন্য আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান পান পপি।

দুই বেয়াইয়ের কীর্তি

আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘দুই বেয়াইয়ের কীর্তি’ ছিল রোমান্টিক ও হাস্যরসাত্মক সিনেমা। গম্ভীর চরিত্রের বাইরে স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত অভিনয়েও পপি যে স্বচ্ছন্দ, এই সিনেমায় তার প্রমাণ মেলে।

লাল বাদশা

মালেক আফসারী পরিচালিত ‘লাল বাদশা’-তে পপির বিপরীতে অভিনয় করেন মান্না। অ্যাকশননির্ভর বাণিজ্যিক এই সিনেমায় মান্না-পপি জুটি দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে। পপির বাণিজ্যিক সিনেমার ক্যারিয়ারে এটি উল্লেখযোগ্য একটি নাম।

No photo description available.

চারিদিকে শত্রু

শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘চারিদিকে শত্রু’-তে পপির সহশিল্পী ছিলেন রুবেল। অ্যাকশননির্ভর গল্পের এই সিনেমায় বাণিজ্যিক ঘরানার নায়িকা হিসেবে পপির উপস্থিতি দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল।

রানী কুঠির বাকি ইতিহাস

সামিয়া জামান পরিচালিত ‘রানী কুঠির বাকি ইতিহাস’ পপির ক্যারিয়ারে ভিন্ন স্বাদের একটি কাজ। ফেরদৌসের বিপরীতে অভিনয় করা এই সিনেমায় প্রচলিত বাণিজ্যিক নায়িকার ইমেজের বাইরে অন্য ধরনের চরিত্রে দেখা যায় তাকে।

সিটি টেরর

এম এ রহিম পরিচালিত ‘সিটি টেরর’-এ অভিনয় করেন মান্না, শাকিব খান ও পপি। সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে ছিলেন পপি। অ্যাকশননির্ভর গল্পের এই সিনেমা তার বাণিজ্যিক ক্যারিয়ারের আলোচিত কাজগুলোর একটি।

No photo description available.

পপির ক্যারিয়ারকে কেবল বাণিজ্যিক সিনেমার সাফল্য দিয়ে বিচার করলে তার অভিনয়যাত্রার বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। একদিকে তিনি মান্না, রুবেল, ওমর সানি, রিয়াজ ও শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শক মাতিয়েছেন; অন্যদিকে ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’-র মতো সিনেমায় অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

তার চলচ্চিত্রজীবনের দিকে ফিরে তাকালে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয়তা, পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য সবকিছু দেখা যায়। রুপালি পর্দায় পপির সেই অধ্যায় বাংলা সিনেমার দর্শকদের কাছে এখনো স্মরণীয়।