এল নিনোর কারণে ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার আড়াই কোটি শিশু: ইউনিসেফ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আর এর প্রভাবে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

আজ বুধবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এর প্রভাবে তীব্র খরা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে লাতিন আমেরিকার লাখো শিশু।

ইতোমধ্যে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকাজুড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে খরা ও বন্যা। ইউনিসেফের হিসাবে, লাতিন আমেরিকার দুই কোটি ৫৮ লাখ শিশু, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির’ মুখে রয়েছে।

ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক রবার্তো বেনেস এক বিবৃতিতে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল প্রসঙ্গে বলেন, ‘এর প্রভাব আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে গভীরতর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। একইসঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।’

ব্রাজিলের আমাজোনাস রাজ্যের মানাউসের পশ্চিমে তীব্র খরার কারণে দাভি মারিনায় রিও নেগ্রো নদীর শুকিয়ে যাওয়া অংশ দিয়ে একটি শিশুকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী | ফাইল ছবি: এএফপি

অঞ্চলভেদে এর প্রভাব ভিন্ন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে, যেসব শিশু থেকেই খাবার ও নিরাপদ পানির সুযোগ পেতে সমস্যার মুখে রয়েছে, তাদের অপুষ্টিতে ভোগার ঝুঁকি বাড়ছে।

বলিভিয়া, কলম্বিয়া, চিলি ও ভেনেজুয়েলার কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। অন্যদিকে, আমাজন নদীর অববাহিকায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এর তীরবর্তী জনপদগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার হুমকির মুখে আছে।

ইউনিসেফের মতে, আরও দক্ষিণে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় বন্যার ঝুঁকি বাড়বে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংস্থাটি কিউবা ও হাইতির জন্য আরও দুর্ভোগের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ বছরের অস্বাভাবিক তীব্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় হারিকেন মৌসুমেও এল নিনোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বেনেস জোর দিয়ে বলেন, ‘একটি মাত্র বড় ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে। সেই ঝড়ে লাখো শিশুর জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।’

ইউনিসেফ জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকায় এল নিনো সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ ডলার চেয়েছিল, কিন্তু ৩০ জুন পর্যন্ত এর মাত্র অর্ধেক অর্থ তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে জাতিসংঘের অন্য সংস্থার মতো ইউনিসেফও বড় ধরনের তহবিল সংকটে রয়েছে।