সরকার এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ শুক্রবার দুপুরে যশোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা জানান।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সরকার এখনো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত আমরা দেশের জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।'
বিশ্বের ৮০টি দেশ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছি। কিন্তু আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন, পেট্রল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১২-২৪ হাজার টন।'
'আপনারা জেনে অবাক হবেন এবার ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪-২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছি। অর্থাৎ গত বছরের মার্চের তুলনায় চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে গেছে,' বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'ঢাকার একটি পেট্রল পাম্প গত বছরের মার্চে গড়ে প্রতিদিন ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করেছে, সেই পাম্প এখন গড়ে ১০ হাজার লিটার পেট্রল-অকটেন বিক্রি করছে এবং সেই অকটেন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।'
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, 'আমরা যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় করি, তাহলে আরেকজন জ্বালানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। আমি আশ্বস্ত করছি বর্তমান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।'
'আগামী দিনগুলোর জন্য সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ যেন নিশ্চিত করতে পারে, সে ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। কারণ আমরা মনে করছি বিশ্ব এভাবেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে,' বলেন তিনি।
'এই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে' মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, গণপরিবহনের খরচ বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। অর্থাৎ জীবন কষ্টকর হবে। তাই চতুর্দিক থেকে চাপ থাকার পরও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই।'
এজন্য সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানির জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, 'গতকাল হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে ৫টি দেশের জাহাজ চলাচলে ইরান সম্মতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে। এটি এমনিতে অর্জিত হয়নি, এটি বর্তমান সরকারের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।'