গ্যাস সংকটের প্রভাব: কাঁচামালের অভাবে অ্যামোনিয়া সার কারখানা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

গ্যাস সংকটে কাঁচামাল উৎপাদন থমকে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

আজ রোববার কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে যায়। এতে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই ডিএপি সার কারখানাটি কাঁচামালের জন্য সিইউএফএল ও কাফকোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে ওই দুটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় ডিএপি প্ল্যান্টে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গত প্রায় দেড় মাস মজুদ রাখা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন সচল থাকলেও শনিবার তা শেষ হয়ে যায়।

জানতে চাইলে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রবিউল আলম খান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের অ্যামোনিয়া তৈরির প্রধান উপাদান হলো চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কাফকো। ওই প্ল্যান্টগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে তারা উৎপাদন শুরু করতে পারবে এবং আমরা কাঁচামাল পাব। এ মুহূর্তে আমাদের বিকল্প কোনো উৎস নেই।'

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সারের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া এই কারখানার দুটি ইউনিটে দৈনিক ৮০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

রবিউল আলম খান বলেন, 'ডিএপি সারের জন্য ফসফরিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়া প্রয়োজন। কারখানায় ফসফরিক অ্যাসিডের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও অ্যামোনিয়া ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়।'

বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মো মনিরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চলমান গ্যাস সংকটের কারণে দৈনিক ২৮০০ টন সক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়াশাল সার কারখানা ছাড়া দেশের বাকি পাঁচ সার কারখানা গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ। এতে গত দেড় মাসে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী ১ মে থেকে সিইউএফএলসহ দুটি কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে এবং তারা উৎপানে গেলে ডিএপি সার কারখানাও চালু করা সম্ভব হবে।