বিএনপির ব্যানারে বাঁকখালী নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা, উচ্ছেদ অভিযান চালাল ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজার শহরে বাঁকখালী নদীর পাড়ে বিএনপির ব্যানারে অবৈধ স্থাপনার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে কিছু স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে বাঁকখালী নদীর তীরে আগে উচ্ছেদ হওয়া জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয়। বাঁশ, টিন, ত্রিপল ব্যবহার করে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, এখনো অনেকগুলো ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, তারা জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার বন্দরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী ডিউটিতে ব্যস্ত থাকার সুযোগে আগের দখলদাররা উচ্ছেদকৃত জমিতে নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি ঘর তোলা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু নির্মাণাধীন।'

তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের ১-৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ।

সে সময় প্রায় ৬৩ একর জমি উদ্ধার এবং ৪৯৬টি অস্থায়ী ও স্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা নদীতীরে সীমানা খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করলে দখলদাররা হামলা চালায়। তখন অভিযান স্থগিত করা হয় এবং বিআইডব্লিউটিএ ৩টি এবং পুলিশ একটি মামলা করে। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

পরে, নির্বাচনের আগের রাতে কস্তুরাঘাট নদী বন্দর এলাকা থেকে খুরুশকুল নতুন সেতু পর্যন্ত অবৈধ নির্মাণকাজ আবার শুরু হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫টি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে।

এদিকে, বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে দখল করা হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে গেলে কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেশ কিছু অবৈধ দোকানের কাঠামো ভেঙে দেয়।

জানতে চাইলে কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাফায়াত মুন্না ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা খবর পাই, বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে দখলদাররা নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। পরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিই।'

তিনি আরও বলেন, 'আগের দখলদাররা বিএনপির নাম ব্যবহার করে নদী দখলের চেষ্টা করছে। কিন্তু নদীর তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা হতে দেওয়া হবে না।'

আজ রোববার বাঁকখালী নদীর পাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নতুন খুরুশকুল সেতুর পশ্চিম পাশে বেশ কিছু নতুন ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেতুর পাশের রাস্তায় ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কয়েকটি দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে, কিছু স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ছাত্রদলের অভিযানের পর দখলদাররা বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন।