পেগাসাস কী, ‘দানবের অস্ত্র’টি দিয়ে যেভাবে গোটা বিশ্বে নজরদারি চালিয়েছে মরক্কো
বর্তমান বিশ্বে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অন্যতম হাতিয়ার নজরদারি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত ও শক্তিশালী অস্ত্রের নাম ‘পেগাসাস’।
ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ ‘পেগাসাস’ নামের এই স্পাইওয়্যার তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এটি ব্যবহার করে বিরোধী দল, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, এমনকি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ওপরও নজরদারি চালিয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
সম্প্রতি মরক্কোর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএসটি) এক সাবেক কর্মকর্তা এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারির তথ্য ফাঁস করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে এই পেগাসাস কেলেঙ্কারির নতুন এক রোমহর্ষক অধ্যায় সামনে এসেছে।
উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী, ফরাসি রাজনীতিক ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর বছরের পর বছর কীভাবে নজরদারি চালিয়েছে, তারই বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
‘পেগাসাস’ কী
হ্যাকিং সফটওয়্যার বা স্পাইওয়্যার পেগাসাস দূর থেকেই কারও মোবাইল ফোনে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। একবার ফোনে পেগাসাস ঢুকলে সেই ফোনের আর কোনো গোপনীয়তা থাকে না। এই স্পাইওয়্যার দিয়ে ফোন ব্যবহারকারীর ইমেইল, টেক্সট মেসেজ ও ব্যক্তিগত ছবিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়।
সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, ব্যবহারকারীর অজান্তেই এটি ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু করে দিতে পারে। এতে একটি সাধারণ মোবাইল ফোন নিমিষেই সার্বক্ষণিক আড়িপাতার যন্ত্রে পরিণত হয়।
এনএসও গ্রুপ বরাবরই দাবি করে, তারা কেবল বৈধ সরকারকে অপরাধী ও সন্ত্রাসী ট্র্যাক করার জন্যই এই স্পাইওয়্যার বিক্রি করে। কিন্তু বাস্তবে এর ব্যবহার হয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক, কূটনীতিক ও রাজনীতিকদের ওপর নজরদারিতে—এমন অভিযোগ বিস্তর।
রাবাতের গোপন বৈঠক ও ‘দানবের অস্ত্র’
ডিজিএসটিতে প্রায় এক দশক কাজ করেছেন এমন একজন তথ্য ফাঁসকারী সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের মাধ্যমে এই নজরদারির বিস্তারিত সামনে এনেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ব্যবহার করেছেন ‘সাফির’ ছদ্মনাম।
সাফিরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রাবাতের একটি বিলাসবহুল ভিলায় এনএসও গ্রুপের প্রতিনিধিরা মরক্কোর উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সামনে পেগাসাসের দীর্ঘ প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। ‘এফএসএসওয়াইএস ভিলা’ নামে এটি পরিচিত ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নজরদারি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান আল-ফাহাদের মরক্কান শাখা এটি ব্যবহার করত।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত কর্মকর্তারা পেগাসাসের রিমোট-ইনফেকশন ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হন। তারা একে ‘বিপ্লবী’ প্রযুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ, এর ফলে টার্গেট করা ব্যক্তির ফোন সশরীরে হাতে পাওয়ার প্রয়োজন আর থাকে না। চোখের সামনেই তারা দেখেন, এনএসও প্রতিনিধিরা দূর থেকে কয়েকটি টেস্ট ফোন হ্যাক করে ক্যামেরা-মাইক্রোফোন চালু করছেন এবং ডেটা-মেসেজে ঢুকে পড়ছেন।
সাফির জানান, ব্যয়বহুল এই স্পাইওয়্যারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিল মরক্কো।
তিনি বলেন, ‘আমিরাতিদের কাছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোনো ব্যাপারই না। তার এটি কিনে বন্ধু দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দিয়েছিল। এটাকে নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশনের সঙ্গে তুলনা করা যায়—এক বন্ধু টাকা দেয়, বাকিরা তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।’
পেগাসাস হাতে পাওয়ার আগে মরক্কোর গোয়েন্দারা ইন্টারনেট ক্যাফেতে নজরদারি, বা ভিন্নমতাবলম্বীদের কাছে আগে থেকে স্পাইওয়্যার ঢোকানো ফোন বিক্রির জন্য দোকানিদের রাজি করানোর মতো পুরনো আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করত। কিন্তু পেগাসাস সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার ছিল।
সাফির জানান, সস্তা পদ্ধতি ব্যর্থ হলে তবেই বড় টার্গেটদের ওপর এই দামি স্পাইওয়্যার প্রয়োগ করা হতো। মরক্কোর গোয়েন্দারা এটিকে বলতেন ‘দানবের অস্ত্র’।
তাদের ভাষায়, ‘আমরা কখনোই পেগাসাস দিয়ে শুরু করি না। এটি দানবের অস্ত্র।’
যেভাবে ফাঁস হলো গোপন তথ্য
মরক্কোর সাংবাদিক হিশাম মানসুরির কয়েক বছরের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে সামনে আসে সাফিরের সাক্ষ্য। পরে ‘ফরবিডেন স্টোরিজের’ সমন্বয়ে বিশ্বের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম—দ্য গার্ডিয়ান, লা মঁদ, হারেৎজ, এল কনফিডেনশিয়াল, ডি জাইটসহ একটি জোট এ নিয়ে যৌথ তদন্ত শুরু করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিকিউরিটি ল্যাবও এই তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়।
এই জোট ফাঁস হওয়া ইমেইল, পেগাসাস ও অন্যান্য স্পাইওয়্যারের টার্গেটিং রেকর্ড, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ সামগ্রী বিশ্লেষণ করে মরক্কোর নজরদারি চর্চার বিস্তারিত তুলে আনে। অন্য দুজন সাবেক মরক্কান গোয়েন্দা কর্মকর্তাও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রজেক্ট পেগাসাসের এই ফাঁস হওয়া ডেটাবেস থেকে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য আরও জানা যায়।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেগাসাস ব্যবহারকারী দেশগুলোকে কোডনাম দেওয়া হতো ইংরেজি বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ও একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামের সমন্বয়ে। যেমন সৌদি আরবের কোডনাম ছিল ‘সুবারু’, আর সাবেক এনএসও কর্মীদের নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী মরক্কোর কোডনাম ছিল ‘মরগান’।
কারা ছিলেন লক্ষ্যবস্তু
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে পেগাসাস পরীক্ষার জন্য চারটি মরক্কান মোবাইল নম্বর বেছে নেওয়া হয়, যার দুটিই ছিল খোদ ডিজিএসটি কর্মীদের। এর পরপরই একই মাসে মরক্কোর সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের নম্বর পেগাসাস সিস্টেমে যুক্ত হতে শুরু করে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই নজরদারি খুব দ্রুত বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম সাহারার বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী আমিনাতৌ হায়দারের একটি স্প্যানিশ মোবাইল নম্বর ২০১৮ সাল থেকেই পেগাসাসের টার্গেটে পরিণত হয়।
২০২১ সালের নভেম্বরে তার দ্বিতীয় একটি ফোনেও স্পাইওয়্যারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রজেক্ট পেগাসাসের ডেটাবেসে মাগরেব অঞ্চল নিয়ে কাজ করা স্প্যানিশ সাংবাদিক ইগনাসিও সেম্ব্রেরোর মোবাইল নম্বরও ছিল।
মরক্কো অবশ্য দেশে বা বিদেশে সমালোচকদের ওপর পেগাসাস ব্যবহারের কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, এনএসও গ্রুপের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে নেই।
স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুপ্রবেশ
মরক্কোর এই সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির সবচেয়ে বড় শিকার প্রতিবেশী দেশ স্পেন।
পেগাসাস প্রকল্পের নথিতে দেখা গেছে, স্পেনের ২০০টিরও বেশি মোবাইল নম্বর পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে নজরদারির সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের বিশ্বাস, এই নজরদারির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল মরক্কো।
২০২২ সালের মে মাসে স্প্যানিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে, ২০২১ সালের মে-জুন মাসে খোদ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবলসের ফোন পেগাসাস দিয়ে হ্যাক করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ডে-মারলাস্কা ও কৃষিমন্ত্রী লুইস প্লানাসের ফোনও একই নজরদারির শিকার হয়েছিল।
এই আড়িপাতা এমন সময়ে ঘটে, যখন মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক সংকট চলছিল। স্পেনের উত্তরাঞ্চলের একটি হাসপাতালে মরক্কোর পোলিসারিও ফ্রন্টের এক নেতাকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার স্প্যানিশ সিদ্ধান্তের জেরেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি। পোলিসারিও ফ্রন্ট মরক্কো থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘকাল ধরে লড়ছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য ও আদালতের নথিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফ্রান্সে রাজনীতিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে নজরদারির জন্য মরক্কোর যে অপারেটর (অ্যাটাকার) অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করা হয়েছিল, স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার মোবাইল ফোন টার্গেট করতেও একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়।
মিত্র বাহিনীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা
মরক্কোর এই নজরদারি যন্ত্র থেকে রেহাই পায়নি মিত্র দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যেরাও। ফাঁস হওয়া নথি এবং স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত দক্ষতা ও তথ্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে মরক্কো সফরে যাওয়া স্পেনের আধাসামরিক বাহিনী গার্দিয়া সিভিলের কর্মকর্তাদের যোগাযোগেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসটি।
স্পেনের আরেক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পলিসিয়া ন্যাসিওনালের কর্মকর্তারা মরক্কো ভ্রমণের সময় সংবেদনশীল তথ্যের জন্য আলাদা মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের মতো সতর্কতা অবলম্বন করতেন। কিন্তু গার্দিয়া সিভিল মনে করেছিল, মিত্র দেশের সঙ্গে কাজ করার সময় এমন সতর্কতার দরকার নেই।
গার্দিয়া সিভিলের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা এমন সতর্কতা নিইনি, কারণ সন্দেহই করিনি যে আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করা হবে।’
আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনাকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেন। পেগাসাসের নজরদারির তালিকায় গার্দিয়া সিভিলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর পাওয়া গেছে পাঁচবার।
এ বিষয়ে ডিজিএসটির এক সাবেক কর্মকর্তা জানান, ‘শুধু সতর্কতার খাতিরে আমরা সবার ওপরই নজরদারি চালাই।’
স্প্যানিশ রাজনীতিকদের ওপর পেগাসাস হামলার সঙ্গে মরক্কোর জড়িত থাকার জোরালো সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, গত বছর স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্র্যান্ডে-মারলাস্কা মরক্কোর ডিজিএসটি প্রধান আবদেললতিফ হাম্মুচিকে গার্দিয়া সিভিলের সর্বোচ্চ সম্মাননা দেন।
গার্দিয়া সিভিলের একটি ইউনিয়ন এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের ভাষ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুপ্তচরবৃত্তির আন্তর্জাতিক অভিযোগে অভিযুক্ত একজনকে এই পুরস্কার দেওয়া বাহিনীর কর্মকর্তাদের মর্যাদার জন্য বড় অপমান।
বিচারহীনতা আর কড়া মূল্য
স্পেনের মন্ত্রিসভায় নজরদারির সত্য উদঘাটনে দেশটিতে বারবার বিচারিক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তদন্তকারী বিচারক ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত বন্ধ করে দেন। পরে ফরাসি মন্ত্রী, এমপি ও সাংবাদিকদের ফোনে পেগাসাস ব্যবহারের তথ্য ফ্রান্স সরবরাহ করলে কয়েক মাস পর তিনি তদন্ত আবার চালু করেন।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এনএসওর প্রধান নির্বাহীর জবানবন্দি নেওয়ার অনুরোধের কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিচারক আবারও তদন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হন। আদেশে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের এ আচরণ দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ‘সদিচ্ছার নীতি’ লঙ্ঘনের শামিল।
তবে বিশ্বজুড়ে পেগাসাসের অপব্যবহারের জেরে এনএসও গ্রুপকে বড় মূল্য চোকাতে হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটা যুক্তরাষ্ট্রে এনএসওর বিরুদ্ধে মামলা করার পর মরক্কোর পেগাসাস ব্যবহারের আরও প্রমাণ সামনে আসে।
২০২১ সালের নভেম্বরে জো বাইডেনের প্রশাসন এনএসও গ্রুপকে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত করে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যে, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছে।
এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর ইসরায়েলি আর্থিক সংবাদপত্র ক্যালক্যালিস্ট জানায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশে ইসরায়েলি সাইবার-প্রযুক্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।
এই অনুসন্ধানে ২০২১ সালের শেষের পর মরক্কোতে পেগাসাস-সহায়তায় নজরদারির নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় মদদে গুপ্তচরবৃত্তি আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে রেখে গেছে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন।