৭ দিনের মধ্যে আসাদগেট-শ্যামলীর সব ক্লিনিকে পরিদর্শন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আগামী সাত দিনের মধ্যে আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড এলাকায় প্রতিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া না। কাউকে সাজা দেওয়া না—উন্নত সেবাটা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। জনগণ যাতে ভালো স্বাস্থ্যসেবা পায়, এটা নিশ্চিত করাই আমাদের পরিদর্শনের লক্ষ্য।’

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই কার্যক্রম চলবে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আমরা এখন ধরেছি আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড পর্যন্ত। এই এলাকায় যতগুলো ক্লিনিক আছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে সবগুলো আমরা পরিদর্শন করব। যেখানে যে অনিয়ম আছে, আমরা অ্যাকশনে যাব।’

‘অ্যাকশন বলতে কাউকে সাজা দেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া না। যেখানে (সেবার মান) উন্নত করার জায়গা আছে, উন্নত করব। যদি গভীর অবহেলা থেকে থাকে, সেই ক্ষেত্রে আমরা অফিশিয়ালি যেটা করা যায়, সেটাই করব,’ যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিদর্শন শুরু হলে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো সাবধানতা অবলম্বন করবে বলেও মত দেন তিনি।

বলেন, ‘সিভিল সার্জন, স্থানীয় ইউএইচএফপিওদের (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) মাধ্যমে দেশব্যাপী আমরা পরিদর্শন করব। খালি ঢাকায় করলে তো হবে না! আমার দেশের মানুষ তো বেশিরভাগ গ্রামে থাকে, ওনাদের জন্য করতে হবে। এ রকম না যে এক মাস করলাম, আর করব না। আমরা করেই যাব।’

কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সংশোধনের জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। যন্ত্রপাতির অভাব থাকলে সেগুলো সংগ্রহ করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন (লাইসেন্স) পেতে ও নবায়ন করতে যে শর্তগুলো পূরণ করা আবশ্যক, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তারা নিজেদের হালনাগাদ করতে না পারলে আমরা (হাসপাতাল/ক্লিনিক) বন্ধ করে দেবো।

অনিয়ম করে কেউ রক্ষা পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্যসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কারও ব্যক্তিগত সুবিধার কারণে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আমরা ক্লিনিক খোলা রাখবো, এটা অসম্ভব! যেটা বলেছি, এটাই হবে। আমাদেরকে কেউ কিনতে পারবে না।’

সাখাওয়াত বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব ব্যাপারে আমাদের একেবারে শূন্য সহিষ্ণু হতে বলেছেন এবং আমরা এটা করব।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একা পারবো না। এটা একটা বিশাল খাত, যেখানে গত কয়েক দশকের জঞ্জাল ঘনীভূত হয়েছে। এটাকে ইচ্ছা করলেই রাতারাতি আমরা কিছু করতে পারবো না। আমাদের ধীরে যেতে হবে। আবার যদি বেশি কঠিন হয়ে পড়ি, তাহলেও কিন্তু ঝামেলা আছে। জনগণ সেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়, ওটাও খেয়াল রাখতে হবে।’