অবহেলায় ৬ শিশুকে মেরে শান্তিতে ঘুমাবে, সেটা হতে পারে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে, এ ধরনের সব ঘটনায় দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিল করেছি। আমি মনে করি, আমি কোনো ভুল কিছু করিনি। ছয়টা বেবিকে কেয়ারলেসলি রেখে মেরে ফেলবে, আর কর্তৃপক্ষকে আঙ্গুল দেখিয়ে শান্তিতে ঘুমাবে, সেটা হতে পারে না।’
আজ মঙ্গলবার সকালে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হামের চিকিৎসার প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চিকিৎসকদের সমর্থন কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছয়টি শিশু মারা গেছে একটি হাসপাতালে। মারা তো যেতেই পারে। আমি তাদের দোষারোপ করছি না, কিন্তু কী কারণে মারা গেল? আমি গিয়েছি সেখানে—বদ্ধ ঘর, একটা জানালা নেই, একটি মাত্র দরজা। সাতটি বেবি থাকবে, তার ওপর ২৫ জন মা ও অ্যাটেনডেন্ট। এসি বন্ধ করে দিয়েছে দুই ঘণ্টা যাবৎ।’
তিনি বলেন, ‘এই যে অক্সিজেন ঢুকছে না বদ্ধ ঘরে, কার্বন-ডাই অক্সাইড ছাড়ছেন ১৬-১৭ জন; আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি অক্সিজেন ছাড়া একটি বেবি বাঁচতে পারে, আর ১৩-১৪ মিনিট একজন অ্যাডাল্ট বাঁচতে পারে। ছয়টি বেবি এক নাগারে কান্নাকাটি করছে। মায়েরা চিৎকার করে নার্সকে ডাকছে—আসে না। ডিউটিতে কোনো ডাক্তার নেই, অথচ পোস্ট-অপারেটিভ রুম। অনেক পরে একজন নার্স এসে একটি বেবিকে নিয়ে গেল। ১০ মিনিট পরে বেবিকে নিয়ে এলো—ভালো।’
‘আমি তো ডাক্তার না, আমি হলেও বুঝতাম বদ্ধ ঘর থেকে বাইরে নেওয়ার পরে কেন সে হাসে, ওখানে কেন সে কাঁদছিল? আবার বেবিটাকে ওই ঘরে নিয়ে আসছে, আধাঘণ্টা পরে ছয়টা বেবি পর পর মারা গেল। বদ্ধ ঘর, অক্সিজেন ছিল না। তাদের উচিত ছিল বাচ্চাগুলোকে সরিয়ে নেওয়া। ছয়টা বাচ্চা পর পর মারা গেল, এবং কর্তৃপক্ষ সেই ঘর পরিদর্শনে যায়নি। কল্পনা করতে পারেন? তাদের কিছু এসে-যায় না,’ যোগ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে সাখাওয়াত প্রশ্ন রাখেন, ‘আমাদের কি শাস্তি দেওয়া উচিত না? নাকি ছেড়ে দেবো প্রথমেই?’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোগীদের সেবা সুন্দর-পরিচ্ছন্নভাবে দেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় ঘোরাফেরা করছি। তারপরও সঠিকভাবে কাজটা করছে না। সে কারণে আজকে যাচ্ছি, হয়তো নির্মম কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে আসতে হবে।’
হামের চিকিৎসায় নির্দেশিকা প্রকাশ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ (এইচএফআরসিএমসি) দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ‘হাম চিকিৎসা নির্দেশিকা’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা নির্দেশিকা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ উদ্যোগ এই প্রথম।
অনুষ্ঠানে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক হাসপাতাল সম্পর্কিত একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এরপর মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম মোহাম্মদ নির্দেশিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামজনিত নিউমোনিয়ায় কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা যাবে না, চোখের জটিলতায় স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না, এবং গুরুতর পানিশূন্যতায় শুধুমাত্র ডেক্সট্রোজ স্যালাইন ব্যবহার নিষিদ্ধ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের ডেঙ্গু নিয়েও কথা বলার আহ্বান জানান। এছাড়া, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।