সরকারি হাসপাতালের প্রায় ২২ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ২২ শতাংশ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ সোমবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত ৪২ হাজার ৮০৬টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ৩৩ হাজার ৩৯৯টি পূরণ হয়েছে, ফলে প্রায় ২২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি স্বাস্থ্যকর্মীর পদের মধ্যে বর্তমানে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ২৯ শতাংশ।

নার্সদের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ২ শতাংশ পদ এখনো শূন্য। অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি পদের মধ্যে পূরণ হয়েছে ৪৫ হাজার ৩০২টি।

মন্ত্রী আরও জানান, পরিবার কল্যাণ সহকারীর (এফডব্লিউএ) ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ পদে অনুমোদিত ২৩ হাজার ৫০০টির মধ্যে পূরণ হয়েছে ১৫ হাজার ২০৭টি।

এছাড়া, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার (এফডব্লিউভি) ৬ হাজার ৩৬১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ২০০টি পূরণ হয়েছে, ফলে ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) অবস্থান সবচেয়ে ভালো। অনুমোদিত ১৪ হাজার ৪৬০টি পদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৩ শতাংশ বা ১৩ হাজার ৯০২টি পদে জনবল রয়েছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহকারীর (এইচএ) ২০ হাজার ৯০৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯৫৬টি পূরণ হয়েছে, ফলে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৩১ জন ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।’

তিনি জানান, সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগের জন্যও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কাজ করছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফল ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হলে খুব শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।’

এছাড়া গ্রামীণ ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে আগামী তিন থেকে চার বছরে প্রতি ইউনিয়নে দুজন করে মোট ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে থাকবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যাতে সারা দেশে শিশুস্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার স্বাস্থ্যখাতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সংস্কার, নীতি ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেল অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে থাকবে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক।

তিনি জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় প্রথমবারের মতো প্রতিটি হাসপাতালে নারী ও পুরুষ উভয় ফিজিওথেরাপিস্টের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করে সেখানে ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। জেলা হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আশপাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে সরকার নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল হেলথ কার্ড (ই-হেলথ কার্ড) চালু করছে বলেও জানান মন্ত্রী। যা একটি সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

এছাড়া, আধুনিক দক্ষতাভিত্তিক এমবিবিএস শিক্ষাক্রম চালু এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অন্তর্ভুক্ত করার নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।