বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ থাকা অন্তত ৮৩ জনের চিকিৎসা চলছিল। এর মধ্যে কয়েকজনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি আলীকদম উপজেলায়। গত শনিবার এই উপজেলার কুরুকপাতা বাজারে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসেন চৌধুরী জানান, এই ক্যাম্পে একসঙ্গে ৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে তিনজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, একজন ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ এবং একজন সহকারী সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসকেরা জানান, ক্যাম্প চালুর প্রথম দিন ৬৫ জন রোগী জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে আসেন। পরের দিন রোববার একই উপসর্গ নিয়ে আসেন আরও ৫৫ জন। এর মধ্যে প্রথম দিন তিনজন এবং দ্বিতীয় দিন ছয়জনের হাম শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের ওই ক্যাম্পেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রমতে, আলীকদম উপজেলায় অন্তত ২৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ছয়জন করে রোগী ভর্তি আছেন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই ম্রো ও মারমা শিশু।

তবে জেলা সদর, থানচি, রুমা এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় এখন পর্যন্ত হাম সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. হানিফ চৌধুরী জানান, কুরুকপাতা ইউনিয়নের ২৮ জন ম্রো শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তারা সবাই ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কুরুকপাতা ইউনিয়নের ইয়াংরিং পাড়ার ‘প্লেননই হোস্টেলে’ থাকা প্রায় ১৫০ ম্রো শিশুর মধ্যে অন্তত ৩৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল হওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াংথাং ম্রো বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ হলে তাকে আলীকদম সদর হাসপাতালে নিতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। এই টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয় না। এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। ফলে জরুরি প্রয়োজনে গাড়িও ডাকতে পারি না।’

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ক্রাথু পুং ম্রো দাবি করেন, তার ইউনিয়নে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ইতিমধ্যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারিভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অস্থায়ী ক্যাম্পের বদলে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

এ ছাড়া ওই একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর রেকর্ড করেছে অধিদপ্তর। এ নিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২২৬-এ পৌঁছেছে।