ঈদের ছুটির পর ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা, অভিযান জোরদারের পরামর্শ
ঈদুল আজহার ছুটির সময় বৃষ্টি হওয়ায় স্কুল-কলেজ আর অফিস প্রাঙ্গণে পানি জমেছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, এই জমা পানিই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই জরুরি ভিত্তিতে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৭ জনে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ঈদের আগের সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, যেসব স্কুলে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো ক্লাস শুরুর আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার একদিন আগে জরুরি ভিত্তিতে ফগিং কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট ও নিচু এলাকাগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এসব স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এসব স্থানে লার্ভিসাইড ব্যবহার করতে হবে, যাতে মশার বংশবিস্তার রোধ করা যায়।
অধ্যাপক বাশার বাসাবাড়িতেও সতর্কতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছুটি শেষে বাড়ি ফিরে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে, টয়লেটের কমোড ফ্লাশ করতে হবে এবং ড্রেন ও পানির পাত্র পরিষ্কার করতে হবে।
তার পরামর্শ, ঘরের দরজা-জানালা খুলে ফ্যান চালিয়ে রাখতে হবে, যেন মশা বের হয়ে যায়। প্রয়োজনে অ্যারোসল স্প্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করে নাগরিকদের সহায়তা করতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস জানান, ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন পশুর হাটে মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৩০ ও ৩১ মে সব ওয়ার্ডে ব্যাপক ফগিং কার্যক্রম চালানো হয়। সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলে ম্যালেরিয়া অয়েল বি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও রাতের ফগিং কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডেই ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ কর্মসূচি মার্চ থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে এবং জুন-জুলাইয়েও চলবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া আগামী ৬ জুন থেকে ডিএনসিসির আওতাধীন সব স্কুল ও কলেজে ‘ক্লিন স্কুল, নো মসকুইটো’ নামে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান শুরু হবে। এর লক্ষ্য হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটিতেও তাদের মশকনিধন কর্মীরা দায়িত্বে ছিলেন এবং নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, এডিস মশার ঘনত্ব নিরূপণে প্রাক-বর্ষা জরিপ ঈদের আগ পর্যন্ত চালানো হয়েছে। জরিপের ফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হবে।