নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পারমাণবিক চুক্তিতে সমঝোতায় প্রস্তুত ইরান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান।

আজ রোববার তেহরানে সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি এ কথা জানান।

তবে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে নাকি আংশিক হবে তা স্পষ্ট করেননি ইরানের এই মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে সত্যিই আগ্রহী কি না, এটা প্রমাণ করার বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার পথে এগোতে পারব।’

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন। ছবি: রয়টার্স

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, ‘আমাদের প্রধান শর্তই হলো আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।’

চুক্তি করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবির বিষয়ে তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ এখন আর কোনো ইস্যু নয়। অন্তত ইরানের দৃষ্টিতে এটি আর আলোচনার টেবিলে নেই।’

ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বার্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে ও ওমানের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের আগ্রহ দেখালেও ট্রাম্প শাসন পরিবর্তনের কথাও বলেছেন।’

এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেন তাখত-রাভাঞ্চি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি তখন ভিন্ন খেলা হয়ে যাবে।’

তার মতে, আরেকটি যুদ্ধ হলে তা সবার জন্যই ভয়াবহ হবে। এ অঞ্চলের প্রায় সব দেশ যুদ্ধের বিপক্ষে বলে জানান তিনি। 

তবে ইসরায়েলে বিরুদ্ধে আলোচনা ভণ্ডুলের চেষ্টার অভিযোগ করেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

সংশয় থাকলেও কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আশা দেখছেন ইরানের এই শীর্ষ আলোচক।

জেনেভায় পরবর্তী বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে অপর পক্ষকেও প্রমাণ করতে হবে যে তারাও আন্তরিক।’

চলতি মাসের শুরুতে ওমানে পরোক্ষ বৈঠক করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করেছেন। আর তেহরানও আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে। 

সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।