মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়ে ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে তেহরানের কড়া বার্তা
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে ইরান। নতুন নেতার প্রতি দেশটির সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতারা আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া জবাব দিয়েছে ইরান।
আজ সোমবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা এলো।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে তিনি মোজতবা খামেনিকে পছন্দ করেন না। তাকে ‘দুর্বল নেতা’ আখ্যা দেন ট্রাম্প।
জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের নেতা নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তার বেছে নেওয়া বা পছন্দের মানুষকেই নেতা বানাবে ইরান—এমনটাই ভেবেছিলেন ওই বিশ্বনেতা।
তবে ইরানের জনগণের জন্য এ বিষয়টি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টিকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে তারা।
মুজতবা খামেনিকে বেছে নিয়ে ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগে ইরান নিশ্চিত করলো তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বেছে নেয় এবং কোনো বিদেশি শক্তি তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবে না।
ইরানের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে। এর মধ্যে আছে দেশটির প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বাসিজ, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল, পুলিশ বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।
এটাকেও ইরানের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে ইরানে অস্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব সংকট তৈরি করা, যা দেশটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। তবে মোটামুটি ‘ঝামেলামুক্ত’ ভাবেই নতুন নেতার নির্বাচন ওই কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ইরান এখন বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়েও কোনো সংকট দেখা দেয়নি। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
এখন ইরানের জনগণ নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে ‘চোখের দেখা’ দেখার অপেক্ষায় আছেন।
এর আগে জনসম্মুখে খুব একটা আসেননি আয়াতুল্লাহ খামেনির সন্তান মোজতবা। তার সমর্থকরা তাকে নিজ চোখে দেখার ও তার কণ্ঠ শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবাই আশায় আছেন, শিগগির জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন তিনি।
তবে এ মুহূর্তে নিজের প্রাণের ঝুঁকি তৈরি না করে কীভাবে জনসম্মুখে আসবেন নতুন নেতা, সেটা নিয়ে উদ্বেগে আছে ইরানবাসী।


