এবার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়াচ্ছে ইউক্রেন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে এবার জড়িয়ে পড়ছে ইউক্রেন।
ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইতোমধ্যে ২০০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে ইউক্রেন। আরও অন্তত ৩০ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভ।
আজ শুক্রবার সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দেওয়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষণেই স্পষ্ট হয় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি।
তিনি বলেন, ‘ইরানকে ঘিরে যা ঘটছে, তা আমাদের জন্য দূরের কোনো যুদ্ধ নয়। কারণ এ যুদ্ধে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তাই আমরা নির্লিপ্ত থাকতে পারি না।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘ইরান যে শাহেদ ড্রোন দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, একই ধরনের ড্রোন ২০২২ সালে রাশিয়ার কাছেও সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে রাশিয়া লাইসেন্স নিয়ে হাজার হাজার এমন ড্রোন উৎপাদন করেছে।’
এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে ইউক্রেনের সফলতার হার প্রায় ৯০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘এই হার ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।’
এই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছে সরবরাহ করছে ইউক্রেন।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার কার্যকর ইন্টারসেপ্টর ড্রোন উৎপাদনে সক্ষম। এর মধ্যে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে মিত্র দেশগুলোকে প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার ড্রোন সরবরাহ করা সম্ভব।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে তারা এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৭০০টির বেশি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে গত মাসে কিয়েভ একাই তিন হাজার ২৩৮টি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা রেকর্ড।
ইন্টারসেপ্টর ছাড়াও সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষারও প্রস্তাব দিয়েছে কিয়েভ।
এ ব্যাপারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞরা ইন্টারসেপ্টর দল মোতায়েনের পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থাও স্থাপন করবে। ইরান যদি বড় ধরনের হামলা চালায়, আমরা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারব।’
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ড্রোন হামলা মোকবিলায় দুর্বলতা রয়েছে।
খরচের দিক থেকেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ইরানের ৫০ হাজার ডলার দামের একটি শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয় প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। সেখানে ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের খরচ মাত্র ৩ হাজার ডলার।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের এই সহায়তা উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।