পরাজয় মেনে না নিলে ইরানের ওপর নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের আজ ২৭তম দিন। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে ঘরে-বাইরে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। 
নিজ দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে পৌঁছে গেছে

পাশাপাশি, মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েও তেমন সাড়া পাননি এই নেতা। 

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। 

এমন কী, একে ‘যুদ্ধ’ আখ্যাও দিতে পারছেন না তিনি—কংগ্রেসের রুদ্ররোষে পড়ার আশংকায়। 

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ইরানকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

পরাজয় মেনে না নিলে তেহরানকে ‘নরক যন্ত্রণা’ দেবেন ট্রাম্পএমন দাবি করেন লেভিট। 

গতকাল বুধবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় হোয়াইট হাউসের গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। 

গণমাধ্যমকে দেওয়া বার্তা লেভিট বলেন, ‘ইরানের শাসকগোষ্ঠীর যারা এখনো টিকে আছেন, তাদের সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা করার আরেকটি সুযোগ রয়েছে। তাদেরকে পাকাপাকিভাবে পরমাণু প্রকল্পের উচ্চাভিলাষ ছাড়তে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) সব সময়ই শান্তি পছন্দ করেন। আর কোনো মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রয়োজন নেই।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। ছবি: রয়টার্স
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। ছবি: রয়টার্স

 

‘তবে ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে না পারে, তারা যদি এটুকু বুঝতে না পারে যে রণক্ষেত্রে তারা পরাজিত হয়েছে এবং আগামীতেও হতে থাকবে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন তাদের ওপর এমন তীব্র হামলা হবে, যা এর আগে তারা কখনো দেখেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা বুলি দেন না এবং তিনি ইরানকে নরক যন্ত্রণা দিতে প্রস্তুত’, যোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে প্রেস সচিবের দায়িত্ব পাওয়া লেভিট (২৮)। 

রাজনীতি ও যোগাযোগে স্নাতক ডিগ্রিধারী লেভিট আরও বলেন, ‘ইরানের হিসাবে যাতে আর ভুল না হয়, এই আশা করি। সর্বশেষ এ ধরনের ভুলে তারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হারিয়েছে। এরপর আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটলে এর পেছনে কারণ হবে ইরানের শাসকদের পরাজয় মেনে না নেওয়ার ও সমঝোতায় না আসার মানসিকতা।’

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স (১৯৮৯)
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স (১৯৮৯)

 

অপরদিকে, রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ট্রাম্প ভিন্ন সুরে কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) দরকষাকষি করছে। তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী।’

‘কিন্তু তারা সেটা মুখ ফুটে বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের আশংকা, নিজ দেশের মানুষই তাদেরকে হত্যা করতে পারে’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘আবার তারা এটাও ভয় পাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদেরকে হত্যা করতে পারে।’