মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেন মিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আজ সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর বেসামরিক প্রশাসনের আড়ালে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মিন অং হ্লাইং।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ আসে। জান্তাসমর্থিত দল জয়ী হলেও জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো ভোটকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে।
রয়টার্স জানায়, ২০২১ সালে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। চলমান সংঘাতে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩৬ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
নতুন নির্বাচনে সু চির দলসহ বিরোধীদের বাদ দেওয়ায় সামরিক-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির জয় নিশ্চিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং সরাসরি সামরিক শাসন থেকে ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসনে’ যেতে চান।
স্বাধীন বিশ্লেষক হটিন কিয়াও আই রয়টার্সকে বলেন, এটাই সবসময় মিন অং হ্লাইংয়ের লক্ষ্য ছিল।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, দুই কক্ষ থেকে মনোনীত তিনজন প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হবে বলে জানায় রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংসদের অধিবেশনে ইউএসডিপি আইনপ্রণেতা কিয়াও কিয়াও হটে বলেন, ‘সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে’।
একই সময়ে, রাজধানী নেপিডোতে এক অনুষ্ঠানে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়ি উইন উয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমি জনগণ, সেনাবাহিনী এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাব।’