ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে আজীবন নিষিদ্ধ যাত্রী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে এক যাত্রীর বিরুদ্ধে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই যাত্রীকে ভবিষ্যতে কোয়ান্টাস ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেটস্টারের সব ফ্লাইটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কোয়ান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটটি শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় মেলবোর্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তবে প্রায় সাত ঘণ্টা পর যাত্রীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে উড়োজাহাজটি তাহিতির পাপেতে শহরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

কোয়ান্টাসের এক মুখপাত্র জানান, অভিযুক্ত যাত্রী ওই ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের ওপর হামলা চালালে অন্য যাত্রী ও ক্রুরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেন।

ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপেতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটিকে ঘিরে ফেলে এবং ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ‘নো-ফ্লাই’ নিষেধাজ্ঞা জারি করে কোয়ান্টাস। এর ফলে তিনি ভবিষ্যতে কোয়ান্টাস ও জেটস্টারের কোনো ফ্লাইটেই ভ্রমণ করতে পারবেন না।

মেলবোর্ন থেকে ছেড়ে যাওয়া কোয়ান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটের যাত্রাপথ দেখানো হয়েছে। ফ্লাইটটি ডালাসে যাওয়ার আগে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপেতে অবতরণ করে। ছবি: এয়ারন্যাভরাডার ডটকম

পরে জ্বালানি ভরে প্রায় ৩৫ মিনিট পর উড়োজাহাজটি পুনরায় ডালাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি শনিবার সকালে গন্তব্যে পৌঁছায়।

কোয়ান্টাসের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফ্লাইটে উচ্ছৃঙ্খল বা হুমকিমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকশিল্পী মাইক গোল্ডস্টেইনের প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কেবিন ক্রুদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন। তাকে উড়োজাহাজের পেছনের দিকে যেতে বলা হলে তিনি বারবার অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে উড়োজাহাজের করিডোরে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে বলেন, ‘সিগারেট খেতে বাইরে যেতে চেয়েছিলেন।’ তবে সেই ভিডিওতে কামড় দেওয়ার অভিযোগের দৃশ্য দেখা যায়নি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ফ্লাইটে এমন একাধিক বিশৃঙ্খল ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যার কয়েকটিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গত মাসে ক্যানবেরা থেকে পার্থগামী একটি ফ্লাইটে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে ফ্লাইট চলাকালে চিৎকার, গালাগাল এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়। তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার সময় তিনি আরেক যাত্রীর হাতে কামড় দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি এয়ারলাইন ক্রুর ওপর হামলার অভিযোগসহ তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ক্রুর ওপর হামলার অপরাধে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

তাহিতিতে অবতরণের প্রায় ৩৫ মিনিট পর কিউএফ২১ ফ্লাইটটি আবার ডালাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ছবি: এয়ারন্যাভরাডার ডটকম

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট পিটার ব্রিনডাল বলেন, ‘উড়োজাহাজে উচ্ছৃঙ্খল বা আক্রমণাত্মক আচরণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। আকাশে থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যায় না।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও পার্থগামী একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক আচরণ ও কেবিন ক্রুকে আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এ ছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে ব্রিসবেন থেকে মেলবোর্নগামী ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইটে একটি ভেপ ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেখানে দমকলকর্মীরা উপস্থিত হন।

গত বছর সিডনিগামী উড়োজাহাজের দরজা মাঝ আকাশে খোলার চেষ্টার অভিযোগে জর্ডানের এক নাগরিকের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রু ও যাত্রীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।