‘রেজিম চেঞ্জে’ যুক্তরাষ্ট্রের যত বিতর্কিত ভূমিকা
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দটি বহু দশক ধরে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত ধারণা। সাধারণভাবে রেজিম চেঞ্জ বলতে বোঝায়—কোনো দেশের বিদ্যমান সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এটি কখনও গণঅভ্যুত্থান, সামরিক অভ্যুত্থান, নির্বাচন, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা গোপন গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে ঘটতে পারে।
এপি, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরাসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বরাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি যে রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে রেজিম চেঞ্জে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনে ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে অসংখ্য গবেষণা, তদন্ত ও ডিক্লাসিফায়েড নথি প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি ইমরান খানের অভিযোগ নতুন করে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল। যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রেজিম চেঞ্জ কী, কেন করা হয়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিম চেঞ্জ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি রাষ্ট্রের বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো বদলে দেওয়া হয়। এটি দুইভাবে হতে পারে: অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন—জনগণের আন্দোলন, নির্বাচন বা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। বহিরাগত প্রভাব—বিদেশি শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ই নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের কৌশল নিয়েছিল। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও গবেষণায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সিআইএ-সমর্থিত অভিযানের বিষয়গুলো।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সাধারণ কারণ দেখা যায়: ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিজম বা প্রতিদ্বন্দ্বী মতাদর্শ ঠেকানো ও সামরিক জোট বা কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বহু ক্ষেত্রে ‘কমিউনিজম প্রতিরোধ’–কে সরকার পরিবর্তনের প্রধান যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
পাকিস্তান ও ইমরান খান বিতর্ক
২০২২ সালে পাকিস্তানে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। এরপর থেকেই তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি—বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—ওয়াশিংটনের অপছন্দ ছিল।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তদন্ত সংস্থা ‘ড্রপ সাইট’-এর ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডোনাল্ড লুর কথোপকথনের উল্লেখ ছিল। সেখানে নাকি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, ইমরান খানের সরকার থাকলে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক কঠিন হবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। তবে এই বিতর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় ‘রেজিম চেঞ্জ’ প্রসঙ্গকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
নিকোলাস মাদুরো ও ভেনেজুয়েলা সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্কের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চলমান উদাহরণগুলোর একটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দিনে-দুপুরে তুলে নেওয়ার ঘটনা।
২০১৩ সালে হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসা মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলা গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে। ২০১৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতকে লক্ষ্য করে, যা ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া ছিল।
তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ মাদুরো সরকারকে দুর্বল করার একটি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল। ২০১৯ সালে বিরোধী নেতা জুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাকে স্বীকৃতি দেয়, যা কার্যত বিদ্যমান সরকারের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বড় ধরনের রেজিম চেঞ্জ বিতর্ক তৈরি করে।
সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব অপশন টেবিলে আছে’ ধরনের বক্তব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভেনেজুয়েলা ইস্যুটি আধুনিক যুগে রেজিম চেঞ্জ শুধু যুদ্ধ বা অভ্যুত্থান নয়, বরং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমেও ঘটতে পারে—এ ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে আছে।
ইরান: ১৯৫৩ সালের মোসাদ্দেক সরকার পতন
বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হলো ইরানের মোহাম্মদ মোসাদ্দেক সরকারের পতন।
১৯৫১ সালে মোসাদ্দেক ইরানের তেলশিল্প জাতীয়করণ করেন। এতে ব্রিটিশ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ‘অপারেশন অ্যাজাক্স’ নামে একটি গোপন পরিকল্পনা নেয়।
ডিক্লাসিফায়েড সিআইএ নথিতে পরে স্বীকার করা হয় যে, ১৯৫৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সিআইএ সরাসরি জড়িত ছিল।
এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোসাদ্দেককে সরিয়ে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ক্ষমতা সুদৃঢ় করা হয়। গবেষকদের মতে, এই ঘটনাই পরবর্তীতে ইরানে পশ্চিমবিরোধী মনোভাব বাড়িয়ে তোলে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে।
গুয়াতেমালা: জ্যাকোবো আরবেন্সের পতন
১৯৫৪ সালে জ্যাকোবো আরবেন্সের সরকার উৎখাতেও সিআইএ জড়িত ছিল বলে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে।
আরবেন্স ভূমি সংস্কার শুরু করেছিলেন, যা মার্কিন ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত করে। যুক্তরাষ্ট্র তখন তাকে ‘কমিউনিস্ট প্রভাবিত’ নেতা হিসেবে তুলে ধরে।
পরবর্তীতে সিআইএ–সমর্থিত সামরিক অভিযান ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে তার সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক গবেষক মনে করেন, এর ফলে গুয়াতেমালায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও ব্যাপক মানবাধিকার সংকট তৈরি হয়।
চিলি: সালভাদর আলেন্দে ও পিনোশে অভ্যুত্থান
১৯৭৩ সালে সালভাদর আলেন্দের সরকার পতনও রেজিম চেঞ্জ বিতর্কের অন্যতম বড় উদাহরণ।
আলেন্দে ছিলেন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন আশঙ্কা করেছিল, চিলি লাতিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
পরে জেনারেল অগাস্টো পিনোশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। বহু ডিক্লাসিফায়েড নথিতে দেখা যায়, সিআইএ আলেন্দে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সক্রিয় ছিল।
যদিও ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অভ্যুত্থান পরিচালনা করেছিল কি না, তবে অর্থনৈতিক চাপ, বিরোধীদের সহায়তা এবং গোপন অপারেশনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
কঙ্গো ও প্যাট্রিস লুমুম্বা
আফ্রিকার ইতিহাসে প্যাট্রিস লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬০ সালে স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন লুমুম্বা। তিনি পশ্চিমা শক্তির প্রভাব কমাতে চেয়েছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে সামরিক নেতা মোবুতু সেসে সেকো ক্ষমতা দখল করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা লুমুম্বাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছিল। বহু গবেষণা ও মার্কিন সিনেট তদন্তে সিআইএ’র পরিকল্পনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ব্রাজিল: ১৯৬৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থান
ব্রাজিলে ১৯৬৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোয়াও গুলার্ট বামঘেঁষা অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করেছিল, ব্রাজিল ‘আরেকটি কিউবা’ হয়ে উঠতে পারে।
পরে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত নতুন সরকারকে সমর্থন দেয়। ডিক্লাসিফায়েড নথিতে দেখা যায়, ওয়াশিংটন অভ্যুত্থানের সম্ভাব্য প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
ইরাক ও সাদ্দাম হোসেন
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতন ছিল সরাসরি সামরিক রেজিম চেঞ্জের উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এবং সাদ্দাম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে তার সরকার পতন ঘটে।
কিন্তু পরবর্তীতে সেই অস্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সমালোচকদের মতে, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, জঙ্গিবাদ ও মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।
লিবিয়া: মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনেও পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ন্যাটো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভূমিকা পালন করে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছিল, এটি ছিল বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করার অভিযান। তবে সমালোচকরা বলেন, এটি কার্যত একটি রেজিম চেঞ্জ অপারেশনে পরিণত হয়েছিল।
গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।
সব অভিযোগ কি প্রমাণিত?
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব রেজিম চেঞ্জ অভিযোগ সমানভাবে প্রমাণিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে ডিক্লাসিফায়েড সরকারি নথি ও তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে, যেমন: ইরান বা গুয়াতেমালায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়ে গেছে, যেমন: পাকিস্তানে ইমরান খান ইস্যু।
অনেক গবেষক বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ অভিযোগ কখনও কখনও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতেও ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে দুর্বল দেশগুলোর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার সময়ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘রেজিম চেঞ্জ’ নিয়ে পরোক্ষভাবে কঠোর অবস্থান ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অকার্যকর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিক রেজিম চেঞ্জের ঘোষণা দেননি; বরং তার অবস্থান আগের মতোই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির ধারাবাহিকতা—অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব মন্তব্য একদিকে রাজনৈতিক বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধ বা সরকার পরিবর্তনের নীতিগত ঘোষণা নয়।
রেজিম চেঞ্জ বিশ্বরাজনীতির একটি জটিল ও বিতর্কিত বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ নতুন নয়; বরং শীতল যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি বড় বিতর্ক।
ভেনেজুয়েলা, ইরান, গুয়াতেমালা, চিলি, কঙ্গো, ব্রাজিল, ইরাক কিংবা লিবিয়ার ঘটনাগুলো দেখায়—বিদেশি হস্তক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে।
পাকিস্তানে ইমরান খানকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক আবারও সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলো কি এখনও অন্য দেশের ক্ষমতার খেলায় সক্রিয়ভাবে জড়িত?



