ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হচ্ছে আজ, অক্টোবরে নির্বাচন কীভাবে হবে?
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে আজ শুক্রবার। এর মধ্য দিয়ে আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম নেসেট পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করল।
আল জাজিরা বলছে, এ নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন গাজা যুদ্ধ, ইরান ও লেবাননের সঙ্গে সংঘাত, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতি গভীরভাবে বিভক্ত।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, নির্বাচনে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ইসরায়েলের রাজনীতি এখনো ডানপন্থার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে।
কীভাবে হবে নির্বাচন?
ইসরায়েলে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
পুরো দেশকে একটিমাত্র নির্বাচনী এলাকা হিসেবে ধরা হয়। ভোটাররা কোনো ব্যক্তিকে নয়, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকায় ভোট দেন।
কোনো দল মোট ভোটের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বা তার বেশি পেলে ১২০ সদস্যের নেসেটে ভোটের অনুপাতে আসন পায়।
দেশটির ইতিহাসে কোনো দল কখনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠন অপরিহার্য। নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নেতাকে জোট গঠনের দায়িত্ব দেন।
কারা এগিয়ে?
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট এবং তার নতুন দল ইয়াশার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।
জরিপে ইয়াশারের সম্ভাব্য আসন ২৩টি, আর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পেতে পারে ২২টি আসন।
তবে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ যৌথভাবে ‘টুগেদার’ জোটের ব্যানারে নির্বাচন করছেন। তাদের জোট প্রায় ১৬টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
গাজা ইস্যুতে কি বিরোধীরা ভিন্ন অবস্থানে?
নেতানিয়াহুর সমালোচক হলেও প্রধান বিরোধী নেতাদের কেউই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মৌলিক ভিন্ন অবস্থান নেননি।
তাদের সমালোচনা মূলত যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিকে কেন্দ্র করে। গাজার যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের বিরোধিতা তারা উল্লেখযোগ্যভাবে কখনোই করেননি।
নির্বাচনের প্রধান ইস্যু কী?
নির্বাচনী প্রচারে বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা এবং সমাজে বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলছে।
আরেকটি বড় ইস্যু হলো অতি-রক্ষণশীল (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) ইহুদিদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ সংক্রান্ত শিথিলতা নিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব ধর্মীয় দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় রয়েছেন নেতানিয়াহু। বিনিময়ে তাদের অনুসারীদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি শিথিল রাখা হয়েছে।
তবে যুদ্ধের কারণে এখন ইসরায়েলের অনেক নাগরিকই চান, আল্ট্রা-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের সদস্যরাও যেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।
গাদি আইজেনকোট, ইয়ার লাপিদ এবং নাফতালি বেনেট—তিনজনই জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে তারা এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর নীতি অনুসরণ করবেন না।
সরকার গঠন কতটা কঠিন হবে?
চ্যানেল ১২-এর জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনের পরও কোনো জোট সহজে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মিলিয়ে পেতে পারে ৫৯টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
নেতানিয়াহু ও তার সমর্থক, আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫১টি আসন। অপরদিকে, আরব দলগুলোর ঝুলিতে যেতে পারে বাকি ১০টি আসন।
ফলে সরকার গঠনে আবারও জোট-সমীকরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।