পাকিস্তানে প্রধান ৩ শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে বিদেশি গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ
পাকিস্তানের তিন প্রধান শহর—ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আগে থেকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে।
এছাড়া দেশটিতে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কাছে নিবন্ধনও করতে হবে।
গত সোমবার পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের একটি বার্তা গ্রুপে এই নতুন নির্দেশনা পাঠায়।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের এমন নতুন নির্দেশনায় দেশটির মানবাধিকার ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নতুন হুমকি তৈরি করবে।
মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সব সাংবাদিক, এমনকি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদেরও সরকারের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
এছাড়া ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে।
তবে এই নির্দেশনা কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে কিংবা নির্দেশনা না মানলে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই নতুন এই নির্দেশনা এলো।
তবে, এ নির্দেশনার সঙ্গে কাশ্মীরের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানায়নি তথ্য মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, ২৫ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তানে নিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রাজধানী ও বড় শহরের বাইরে ঘটে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হবে।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’ সাংবাদিকতাকে সহজ করার পরিবর্তে সংবাদ সংগ্রহের ওপর আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীন সংবাদ প্রকাশের পথে বাধা তৈরি করবে।
এএফপি জানায়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বড় শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এনওসি নিতে হয় বিদেশি সাংবাদিকদের। তবে সেটি পেতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়, ফলে জরুরি ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে দেশটির তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।