বিদুরের ১৫টির মধ্যে ৫টি পানির উৎসে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, বাড়ছে রোগের ঝুঁকি
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত বিদুর পৌরসভায় খাবার পানি পরীক্ষা করে ইতোমধ্যে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
আজ শুক্রবার দ্য কাঠমুণ্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট বন্যায় নেপালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বিদুর। এই এলাকায় অন্তত দুই হাজার ৭০০ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিদুরে বিভিন্ন পানির উৎস থেকে ১৫টি নমুনা সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মধ্যে পাঁচটিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান তারা।
পৌরসভার জ্যেষ্ঠ ল্যাব টেকনিশিয়ান কৃষ্ণ প্রসাদ রিজাল বলেন, ‘যে ৫টি নমুনায় ই-কোলাই পাওয়া গেছে, পানির সেই উৎসগুলোতে আমরা ক্লোরিন দিয়েছি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-কোলাই সাধারণত উষ্ণ রক্তের প্রাণীর অন্ত্রে বাস করে এবং মলমূত্রেও পাওয়া যায়। পানিতে এ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, ওই এলাকায় দূষণ রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে বলেন, দূষিত পানি থেকে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’-এর ঝুঁকিও রয়েছে।
দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. শরদ রাজ ওন্তা বলেন, ‘এই দুর্যোগের একাধিক দিক রয়েছে এবং এর পরিণতিও বহুমুখী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ গাদাগাদি করে ছোট একটি রুমে বসবাস করছেন। সেখানে গর্ভবতী নারী, সদ্য মা হওয়া নারী, ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।’
বিদুর পৌরসভার স্বাস্থ্য সমন্বয়ক রাজা রাম ভাণ্ডারি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা পাওয়া গেছে। তবে এখনো বড় কোনো প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।’
এদিকে স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা।
‘১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭৫ হাজার শিশুকে আমরা হাম-রুবেলার টিকা দেব,’ বলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিবার কল্যাণ বিভাগের ইমিউনাইজেশন শাখার প্রধান ডা. অভিযান গৌতম।
এর পাশাপাশি, বাস্তুচ্যুত শিশুদের টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।