ইলেকট্রনের চলাচল থেকে জিন এডিটিং, রসায়নে নোবেলের সম্ভাব্য দাবিদার যারা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

এ বছর রসায়নে নোবেল উঠছে কার হাতে, তা জানা যাবে আজ বুধবার। সুইডিশ রয়্যাল একাডেমি অব সায়েন্সেস বিকেলে স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে।

এবার আলোচনায় এগিয়ে আছে ঘুম ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অণু নিয়ে গবেষণা কিংবা জিন এডিটিংয়ের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার বিষয়গুলো।

গত বছর আণবিক কাঠামো তৈরির অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্যের রিচার্ড রবসন ও আমেরিকান-জর্ডানীয় ওমর ইয়াঘিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

এবার ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘ক্লারিভেট’-এর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের হরমোন ‘জিএলপি-১’ নিয়ে গবেষণাটি হয়তো নোবেল জিতবে। তবে সোমবার সেই পুরস্কারটি পেয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা।

তবুও রসায়নে আশাবাদী ক্লারিভেটের গবেষণা প্রধান ডেভিড পেন্ডলবেরি। তিনি বলেন, ওজন কমানোর জনপ্রিয় ওষুধ ‘ওয়েগোভি’ ও ‘মাউঞ্জারো’-তে ব্যবহৃত এই জিএলপি-১ হরমোনটি রসায়নের নোবেল জিততে পারে।

এ ছাড়া নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে কানাডীয় এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক জেন্স জুল হস্ট ও যুগোস্লাভ বংশোদ্ভূত মার্কিন রসায়নবিদ সভেতলানা মভসভের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।

রসায়নে ক্লারিভেট এ বছর ‘সেলফ-অ্যাসেম্বলড মনোলেয়ারস’ বা আণবিক স্তরের এক ধরণের প্রলেপ তৈরির গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কোনো বস্তুর পৃষ্ঠতলের বৈশিষ্ট্য নিজেদের প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করতে পারেন।

এ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন রসায়নবিদ ডেভিড আলারা ও র‍্যালফ নুজো এবং ইসরায়েলের জ্যাকব সাগিভকে এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএনএ গবেষণা

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রোটিনের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রন কীভাবে চলাচল করে, সেই প্রক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করার জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যারি গ্রে এবং জে উইঙ্কলারের নামও উল্লেখ করেছে।

পেন্ডলবেরি এএফপিকে জানান, তার মতে সোলার সেল বা সৌরকোষ নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল। এক্ষেত্রে জার্মান বংশোদ্ভূত সুইস রসায়নবিদ মাইকেল গ্র্যাটজেলকে তিনি অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন।

এ ছাড়া, ক্লারিভেট মার্কিন রসায়নবিদ ও জীববিজ্ঞানী ডেভিড লিউর নামও সামনে এনেছে। তিনি কাজ করেছেন প্রিসিশন জিন এডিটিং বা নিখুঁত জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি নিয়ে। এই প্রযুক্তি সরাসরি জীবন্ত কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারে।

২০২৫ সালে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিড লিউ বলেন, আমাদের পছন্দমতো ডিএনএ সিকোয়েন্সকে নতুন কোনো সিকোয়েন্সে রূপান্তর করার ক্ষমতাটি শক্তিশালী মৌলিক সক্ষমতা।

সুইডিশ রেডিওর বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক লার্স ব্রোস্ট্রমও ডেভিড লিউকে নোবেলের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মনে করেন। তিনি এএফপিকে জানান, ডিএনএ নিয়ে কাজ করা আরও অনেক বিজ্ঞানীও এই স্বীকৃতি পেতে পারেন।

এই বিজ্ঞান সাংবাদিকের মতে, নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং বা পরবর্তী প্রজন্মের ডিএনএ বিন্যাস নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্রিটিশ রসায়নবিদ শঙ্কর বালাসুব্রামনিয়াম এবং ডেভিড ক্লেনারম্যান নোবেল পেতে পারেন।

এ ছাড়া ব্রোস্ট্রমের তালিকায় আছেন ঘুম বিষয়ক গবেষক ইমানুয়েল মিনো এবং জীববিজ্ঞানী মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া। মূলত ‘অরেক্সিন’ নামে একটি নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ে কাজ করার জন্য তারা আলোচনায় আছেন। এটি মানুষকে ঘুম থেকে বিরত রাখে।

ব্রোস্ট্রমের ধারণা, স্প্যানিশ-মার্কিন গবেষক লুইস দে লেসিয়াও সম্ভবত এই দুজনের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন।

টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং

অতীতের আলোচনায় ব্যাটারি প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য ফ্রান্সের জাঁ-মারি তারাস্কনের নাম শোনা গেছে।

বিশ্লেষকদের কাছে বহুল আলোচিত আরেকটি নাম হলো তাইওয়ানিজ-মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ চি-হুই ওং। জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লাইকোপ্রোটিন সংশ্লেষণের অগ্রগামী পদ্ধতির উদ্ভাবক হিসেবে তিনি পরিচিত।

ওষুধ প্রয়োগ পদ্ধতি এবং টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণার জন্য মার্কিন রাসায়নিক প্রকৌশলী রবার্ট ল্যাঙ্গারও নোবেলের সম্ভাব্য তালিকায় বেশ পরিচিত মুখ।

রসায়নের এই পুরস্কার ঘোষণার আগে গতকাল মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন।

অ্যান্টার্কটিকায় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ প্রতিষ্ঠা এবং মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম। আর নোবেল মৌসুমের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পুরস্কার অর্থাৎ শান্তিতে নোবেল দেওয়া হবে শুক্রবার।

১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল মৌসুম।

নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীকে একটি সনদ, একটি স্বর্ণপদক এবং ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেওয়া হয়। তবে কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে এই অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।