করাচির গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭
পাকিস্তানের করাচি শহরের গুল প্লাজার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার স্থানীয় সরকারের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ১৭ জানুয়ারি রাতে গুল প্লাজার তিন তলা ভবনে আগুন লাগে। সে ঘটনার পর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আগুনের কারণ জানাতে পারেনি তদন্তকারীরা।
মুখপাত্র জানান, '৬৭ জনের মরদেহের ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে'।
'আট ব্যক্তির পরিচয় ডিএনএ বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে', যোগ করেন তিনি।
গুল প্লাজা নামের ওই শপিংমলের আগুনে যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের স্বজনরা উদ্ধারকাজের ধীরগতির সমালোচনা করছেন।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া সাইদ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ৫০টির বেশি পরিবার ডিএনএর নমুনা জমা দিয়েছে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ১০ লাখ রুপি (৩৫ হাজার মার্কিন ডলার) করে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রাদেশিক সরকার। পাশাপাশি, শপিং মলের এক হাজার ২০০ দোকানমালিকও যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।
দুর্বল অবকাঠামোর কারণে করাচির মার্কেট ও কারখানায় প্রায়শই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে এত বড় ধরনের আগুনের ঘটনা বিরল।
সরকারি একটি কমিটি আগুনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে, তবে এই ভয়াবহ আগুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
শনিবার রাতে গুল প্লাজা নামে ওই শপিং মলে আগুন লাগে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।
কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে তারা বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেননি।
শপিং মলের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা উচিৎ ছিল। কর্তৃপক্ষ সাড়া দিতে অনেক দেরি করে। আগুন নেভানোর সীমিত সক্ষমতাও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলতে থাকে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সদর ফায়ারস্টেশন ও অন্যান্য নাগরিক সুরক্ষা সংস্থাগুলো সময়মত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাতে পারেনি। রোববারের আগে আগুন নেভানোর উদ্যোগে ঘাটতি ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দোকানিরা বলেন, দমকলবাহিনী তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে শনিবার রাত থেকে কাজ শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক কম হোত।
এক দোকানি উল্লেখ করেন, সদর ফায়ারস্টেশন গুল প্লাজা থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরত্বে। তা সত্ত্বেও, দমকলকর্মীদের আসতে অনেক সময় লেগে যায়।

