আজ কাঠবিড়ালিকে প্রশংসা করার দিন, জেনে নিন ৫ তথ্য
'কাঠবিড়ালি! কাঠবিড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?/ গুড় মুড়ি খাও?/ দুধ ভাত খাও?/ বাতাবি নেবু?/ লাউ? বেরাল বাচ্চা? কুকুর ছানা? তাও?'—শিশুতোষ এই কাব্যকথা ছোটবেলায় অনেককে পড়তে হয়েছে। ছোট তুলতুলে লেজের চঞ্চল প্রকৃতির এই প্রাণীকে নিয়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন 'খুকী ও কাঠবিড়ালি' কবিতা।
হঠাৎ কেন এই কবিতা? কারণ আজ কাঠবিড়ালিকে প্রশংসা করার দিন। বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টি হারগ্রোভ কাঠবিড়ালির প্রশংসা দিবসের প্রচলন করেন। এই দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও আদুরে ইঁদুরজাতীয় প্রাণীটি সম্পর্কে সচেতন করা।
কাঠবিড়ালির প্রশংসা দিবসে পাঁচটি মজার তথ্য তুলে ধরা হলো:
২৮০টির বেশি প্রজাতি!
ইট-কাঠের এই শহরে গাছ যদিও অনেকটাই বিরল তবুও ধারে-কাছের কোনো সরকারি উদ্যানে এখনো কাঠবিড়ালির নীরব উপস্থিতি দেখা যায়। ভীত-চঞ্চল গতিতে এক গাছ থেকে নেমে আরেক গাছে ওঠার দৃশ্যও দেখা যায় সেখানে।
আপনি যে কাঠবিড়ালি দেখেছেন তা একটি প্রজাতি। সারাবিশ্বে কাঠবিড়ালির বহু প্রজাতি আছে।
সবচেয়ে বড় প্রজাতিটি হলো ভারতীয় দৈত্যাকার কাঠবিড়ালি। একে 'মালাবার দৈত্যাকার কাঠবিড়ালি' নামেও ডাকা হয়। মাথা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত এদের দৈর্ঘ্য হতে পারে ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত!
সবচেয়ে ছোটটি হলো আফ্রিকান পিগমি কাঠবিড়ালি। এর দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার!
সারাজীবন দাঁত বাড়ে
কাঠবিড়ালির সামনের দিকে চারটি বড় দাঁত থাকে। বড় দাঁত থাকতেই পারে, অনেকেরই থাকে, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। অবাক করা তথ্য হলো, কাঠবিড়ালির এই দাঁতগুলো সারাজীবন বাড়তে থাকে।
এর কারণ: বাদাম, বীজ ও অন্যান্য শক্ত কাঠজাতীয় খাবার চিবোতে গিয়ে যেন দাঁত ক্ষয়ে না যায়।
তাই বলে ভাববেন না যে, কাঠবিড়ালি পুরোপুরি নিরামিষভোজী। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই প্রাণী পাখির ডিম, এমনকি ছোট পাখিও খায়। কোনো প্রজাতির কাঠবিড়ালি আবার গাছের রস খেতে ভালোবাসে।
অজান্তে নতুন গাছ লাগায়
কাঠবিড়ালিরা একটু ভুলোমনা স্বভাবের!
শীতকালে খাবার কম পাওয়া যায় বলে তারা একর্ন (ওক ফল) মাটিতে পুঁতে রেখে দেয়। কিন্তু পরে এগুলোর মাত্র ৭০ শতাংশ খুঁজে পায়।
মানে প্রতি তিনটির মধ্যে একটি একর্ন মাটিতে থেকে যায়। ধীরে ধীরে সেগুলো নতুন গাছে পরিণত হয়!
লাল ও ধূসর কাঠবিড়ালি একসঙ্গে থাকতে পারে না
যুক্তরাজ্যে বেশি দেখা যায় ধূসর কাঠবিড়ালি। এরা বিরল লাল কাঠবিড়ালির জন্য বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লাল কাঠবিড়ালি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় প্রজাতি। এরা সেখানে প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে বসবাস করছে।
ধূসর কাঠবিড়ালি ১৮শ দশকে আমেরিকা থেকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়। এদের বংশবিস্তারের হার বেশি এবং তারা বড় ও শক্তপোক্ত হয়। ফলে তারা ভালো খাবার আগে দখল করে নেয়। এতে খাবার সংকটে লাল কাঠবিড়ালির সংখ্যা কমে যায়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার লাল কাঠবিড়ালি আছে। ধূসর কাঠবিড়ালি আছে প্রায় ২৫ লাখ।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ধূসর কাঠবিড়ালিরা স্কুইরেল পক্স ভাইরাস বহন করে। এটি লাল কাঠবিড়ালির জন্য ক্ষতিকর।
যোগাযোগে দক্ষ
প্রজাতিভেদে কাঠবিড়ালিরা বিভিন্নভাবে এদের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে। কোনো কাঠবিড়ালি 'ঘৎ ঘৎ' করে, কোনোটি 'কোয়াক কোয়াক' করে, কোনোটি করে 'চিঁ চিঁ', আবার কোনোটির 'চিৎকার' শোনা যায়।
তবে কাঠবিড়ালিদের মধ্যে যোগাযোগের সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো তাদের লেজ। কোনো হুমকির আশঙ্কা হলে তারা লেজ ঝাঁকিয়ে সংকেত দেয়।
এই লেজ ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া, গাছ থেকে গাছে লাফানোর সময় ভারসাম্য রক্ষাতেও লেজ দারুণ কাজে আসে।