‘ডিসিশন প্যারালাইসিস’ কী, কাটিয়ে উঠবেন যেভাবে

সুমাইয়া ইসলাম
সুমাইয়া ইসলাম

মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য সিদ্ধান্ত নেয়—কখনো ছোট, যেমন কী খাবে। আবার কখনো বড়, যেমন কোন পেশা বেছে নেবে। কিন্তু সবসময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় না। বিশেষ করে যখন সামনে অনেকগুলো বিকল্প থাকে, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যায়। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ এই চিন্তায় সময় গড়িয়ে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকেই বলা হয় ডিসিশন প্যারালাইসিস।

সহজভাবে বললে, অনেক বিকল্প বা ভুল সিদ্ধান্তের ভয়ে যখন মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বা দেরি করে ফেলে, সেটাই ডিসিশন প্যারালাইসিস। আধুনিক জীবনে, অনলাইন শপিং থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার নির্বাচন সব জায়গাতেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ডিসিশন প্যারালাইসিস
ছবি: সংগৃহীত

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত অপশন অনেক সময় আমাদের উপকারের বদলে চাপ তৈরি করে। এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বিকল্প থাকলে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে বা পরে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়।

কেন সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়?

অনেক সময় একটিমাত্র জিনিস বেছে নেওয়ার সময় আমরা দেখি অসংখ্য অপশন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সাধারণ টুথব্রাশ কিনতেও আজকাল বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ফিচার, দাম ও ডিজাইন থাকে। এত বিকল্প দেখে মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়। যারা সবসময় ‘সেরা’ বিকল্প খুঁজতে চান বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয় পান, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৩টি সহজ ধাপ

নিখুঁত সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই

সব সিদ্ধান্তেরই কিছু ভালো ও খারাপ দিক থাকে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তাই শতভাগ নিখুঁত সিদ্ধান্ত বাস্তবে খুব বেশি সম্ভব নয়। এজন্য অতিরিক্ত চিন্তা না করে ‘যথেষ্ট ভালো’ সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সিদ্ধান্ত না নেওয়াও একটি সিদ্ধান্ত

অনেক সময় আমরা ভাবি, পরে সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া বা দেরি করাও একটি সিদ্ধান্ত, যার ফলে অনেক ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই অহেতুক দেরি বা গড়িমসি করা ঠিক নয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তালিকা ও স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার

সবচেয়ে ভালো হয়, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে ফেলতে (যেমন—দাম, মান, সুবিধা)। এরপর প্রতিটি অপশনকে সেই মানদণ্ড অনুযায়ী নম্বর দিতে হবে। যে অপশন সবচেয়ে বেশি স্কোর পাবে, সেটাই বেছে নিতে হবে। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং বিভ্রান্তি কমে।

যদি ফলাফল ড্র হয় বা নম্বর সমান হয়, তবে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য লুডুর ছক্কা বা টস ব্যবহার করলেই হলো।

মনোবিজ্ঞানে দেখা যায়, যারা সবসময় ‘পারফেক্ট’ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকেন, তারা অনেক বেশি চাপে থাকেন। অন্যদিকে যারা ‘যথেষ্ট ভালো’ বিকল্পে সন্তুষ্ট থাকেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বস্তিতে থাকেন।