ঈদের আগে ত্বকের যত্নে যা করতে পারেন

নুসরাত জাহান

ঈদ আসতে এখনো কিছু দিন বাকি। তবুও ঘরে ঘরে যেন ঈদের প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। নতুন পোশাক বা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছাড়াও, ঈদ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রূপচর্চা।

সারাদিন রোজা রাখা, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং রাত জাগার ফলে ত্বক কিছুটা মলিন হয়ে যেতে পারে। তবে ঈদের আগে থেকেই নিয়মিত রূপচর্চা করলে ত্বক থাকবে সতেজ ও প্রাণবন্ত।

পর্যাপ্ত পানি পান

সারাদিন রোজা রেখে শরীরের পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ। তাই ইফতারের পর থেকে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ সময় পানি না পান করলে ত্বক মলিন দেখাতে পারে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে অনেকেই চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে খান। এ ছাড়া, বিশেষ করে যাদের দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটে, তারা বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসও পান করেন। দিনকে দিন এই ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ত্বক পরিষ্কার ও মৃত কোষ দূর করা

নিয়মিত ও সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করা সুস্থ ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অঞ্চলের উষ্ণ আবহাওয়া এবং প্রতিদিন ধুলা, ঘাম ও দূষণের সংস্পর্শে থাকার কারণে মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে দুইবার মুখ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

শুধু মুখ ভালো করে পরিষ্কার করলেই চলবে না; বরং প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার স্ক্রাবিংয়ের মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষগুলো আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এর ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাবে। এ ছাড়াও মৃত কোষগুলো পরিষ্কার হয়ে গেলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ও সেরাম আরও ভালোভাবে শোষিত হবে।

তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব করা যাবে না। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে বা অনেক সময় ত্বক ছিলে যেতে পারে।

Skincare

ত্বকের গ্লো

যদি আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করে রাতারাতি চোখের নিচের কালো দাগ চলে যেত, তাহলে ডার্ক সার্কেল নিয়ে আমাদের এত ভুগতে হতো না!

ঈদের আগে নিমিষেই চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে—এমন প্রসাধনী সামগ্রী, যেমন: রোলার, ক্রিম ও সেরামের বিজ্ঞাপন সর্বত্র চোখে পড়ে। এতসব নাটকীয়তার মধ্যে আসলে সত্য বলতে তেমন কিছুই নেই।

বিভিন্ন কারণ, যেমন: জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, অপর্যাপ্ত ঘুম, পানিশূন্যতা, দুশ্চিন্তা এবং শুষ্ক ত্বকের কারণে চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে একটি হাইড্রেটিং সেরাম ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। আর যদি এর সঙ্গে একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা যায়, তাহলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়।

এর ফলে শুধু চোখের নিচের কালো দাগই নয়, মুখ ও থুতনির চারপাশের কালো দাগের ক্ষেত্রেও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

ত্বকের পুষ্টি

ত্বকের যত্ন ও পুষ্টি মূলত ইফতারের টেবিল থেকেই শুরু হয়। আমাদের ইফতারের প্লেটে সাধারণত তেলে ভাজা নানা পদের খাবার থাকে। এই খাবারগুলোর পরিমাণ কমিয়ে এর সঙ্গে কিছু রিফ্রেশিং ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন: ছোলার সালাদ, পাস্তা বা টকদই দিয়ে বানানো বিভিন্ন শরবত যোগ করলে তা একদিকে যেমন শরীরে এনার্জির যোগান দেবে, অন্যদিকে ত্বককেও সুস্থ রাখবে।

তবে ঈদের দিন ব্রণমুক্ত ত্বক পেতে এখনই আপনার খাবারের তালিকা থেকে অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারগুলো বাদ দেওয়া ভালো।

ফেসিয়ালের সঠিক সময়

ঈদের আগে ফেসিয়াল করার ক্ষেত্রে সময় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো উৎসবের অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন আগে ফেসিয়াল করা ভালো। কারণ ফেসিয়ালের পর ত্বকে যদি কোনো ধরনের র‍্যাশ বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়, তাহলে তা ঠিক হয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। ফলে ঈদ আসতে আসতেই ত্বক আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—উৎসব একেবারে দোরগোড়ায় এসে গেলে সাধারণত আপনি যে ধরনের ফেসিয়াল করে অভ্যস্ত, সেটিই করা ভালো। এ সময় নতুন কোনো ধরনের ফেসিয়াল ট্রাই করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

স্বাভাবিক রুটিন মেনে চলা

ঈদ সামনে, তাই এই সময় ত্বকের যত্নে নিয়মিত একটি রুটিন মেনে চলা সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, হালকাভাবে মৃত কোষ দূর করা এবং উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা—এসব অভ্যাস ত্বককে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া নিয়মিত রূপচর্চা করলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

অনুবাদ করেছেন শবনম জাবীন চৌধুরী