সাহায্য চাইতে কেন দ্বিধায় থাকা উচিত নয়

আসিফ আহমেদ রুদ্র

জীবন মানেই অ্যাডভেঞ্চার, চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি দিনই অনিশ্চিত, কখনো কঠিন কিংবা ভয়ানকও হতে পারে। আমরা এমন পরিস্থিতিতেও পড়ি, যা আমাদের ভীষণভাবে নাড়া দেয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, জীবন যত কঠিনই হোক, নিজেকে একা ভাবার কোনো কারণ নেই। নিজের পাশে কাউকে আপনি চাইতেই পারেন।

Help
ছবি: সংগৃহীত

সাহায্য চাইতে দ্বিধা নয়

আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে, প্রয়োজনে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণত আমরা এমনটা ভাবি না। আমরা আগেই ভেবে নিই, সামনের মানুষটা হয়তো বিরক্ত হবে। কিংবা কারো কারো আরও নেতিবাচক চিন্তাও মাথায় আসে—কেউ যদি মুখের ওপরে ‘না’ করে দেয়? আপনার মনেও এই ভাবনাগুলো এলে একটু থামুন, আপনার জন্য দারুণ একটা খবর আছে। একাধিক গবেষণা বলছে, অধিকাংশ মানুষ অন্যকে সাহায্য করার ব্যাপারে আগ্রহী থাকে। তাদের আগ্রহের মাত্রা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। শর্ত শুধু একটাই, আপনাকে তাদের সাহায্যটা চাইতে হবে।

আপনি হয়তো ভাবেন, সাহায্য চাইলে অন্যরা আপনাকে দুর্বল মনে করবে। অথচ ঘটনা কিন্তু উল্টো, সাহায্য চাওয়াটাই সাহসের পরিচয়। আর আপনার যে সাহায্য প্রয়োজন, এই উপলব্ধিটা আসা এবং সেটা স্বীকার করে উদ্যোগ নেওয়া—এটা কিন্তু আপনার সাহসিকতারই ফলাফল। পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে এই আত্মসচেতনতা নিশ্চিত করে, আপনি বেশ বুদ্ধিমানও বটে!

Help
ছবি: সংগৃহীত

‘সাহায্য’ যোগাযোগ বাড়ায়

সাইকোলজিতে বেন ফ্র্যাংকলিন ইফেক্ট নামে বেশ জনপ্রিয় একটা তত্ত্ব আছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অন্যকে সাহায্য করার পর তার প্রতি মানুষের ভালো লাগা বেড়ে যায়। এমনকি ভবিষ্যতে একই ব্যক্তিকে আবারও সাহায্য করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাই আপনি যদি কারও সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিবিড় করতে চান, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার পরামর্শ বা সাহায্য চাওয়া। আপনি তার মতামতকে মূল্য দেন, তার জ্ঞান ও সামর্থ্যকে সম্মান করেন—এই ধারণাটি তার মাঝে গড়ে উঠলে আপনাআপনিই বেড়ে যাবে আপনাদের যোগাযোগ।

আর এই সাহায্য চাওয়া ও করার মধ্য দিয়ে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিদানে আপনিও যদি এগিয়ে আসেন যেকোনো সহযোগিতা নিয়ে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। একজন নিঃসঙ্গ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই বন্ধনটাই তো জরুরি।

Help
ছবি: সংগৃহীত

অন্যের সময় ও নিজের অবস্থানকে মূল্যায়ন করুন

আপনি চাইলে মানুষ সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু হ্যাঁ, আপনাকেও তাদের সময় ও সীমাবদ্ধতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। জানতে হবে, সাহায্য কীভাবে চাইতে হয়। দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ না রেখে হঠাৎ একদিন ফোন করে শুধু নিজের প্রয়োজন জানালেই হবে না। আবার অনেক কথা বলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের সমস্যার কথা জানানোও ঠিক নয়। আপনার যা দরকার, সেই সাহায্যটুকু সহজভাবে জানিয়ে দেওয়া যায়, এতে ক্ষতি নেই।

মানুষের ব্যক্তিগত পরিসর ও সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাহায্য চাওয়ার আগে তার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতাটুকুও ভেবে দেখুন।

Help
ছবি: সংগৃহীত

নিজের স্কোর বাড়িয়ে নিন

ভিডিও গেম খেলার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় আছে? সেখানে কী দেখা যায়, যত বেশি মিশন কমপ্লিট, তত বেশি স্কোর। সেরকমই আপনি যখন কাউকে সাহায্য করছেন, আপনার সামাজিক স্কোর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই স্কোর দেখা যায় না, কিন্তু এই পারস্পরিক সহযোগিতাই এক ধরনের অদৃশ্য ভারসাম্য ধরে রাখে সমাজে।

আপনি মানুষের যত বেশি উপকারে আসবেন, আপনার ভালো লাগা তত বাড়বে। সাহায্য চাইলে এই স্কোর কিন্তু কমে না! বরং যোগাযোগকে আরও গভীর করে। তবে আপনাকেও অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। সুযোগ থাকার পরও কাউকে সাহায্য না করলে ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গেও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না!

পারস্পরিক সহযোগিতার এই নিয়ম কিন্তু কোনো আইনের বইয়ে লেখা নেই। কিন্তু ভেবে দেখুন, আপনার অবচেতন মন কিন্তু এভাবেই কাজ করে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, আপনি একাই সব পারবেন, কারো সাহায্য প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটা ঠিক ভাবনা নয়, বরং দাম্ভিকতা। একটু চেষ্টা করে দেখুন, নিজের মনের ভুল ধারণাটা ভেঙে যাবে।

তাই কেউ সাহায্য করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। কোনো স্বার্থ ছাড়াই অন্যের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। এর থেকে বড় তৃপ্তি আর কোথাও পাবেন না!

অনুবাদ করেছেন আফরা নাওমী