নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: ৭ আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ সাতজনের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার নরসিংদী জেলা জজ আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর কাইয়ুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে আসামিদের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৩৮), হজরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী ওরফে আহমদ দেওয়ান (৬৫), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)। তারা সবাই সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
নিহত কিশোরী একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত এবং পরিবারের সঙ্গে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। কিশোরীর বাবা আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয় যুবকের একটি দল তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং থানায় যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হয়।
বাধ্য হয়ে তারা বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীকে জানান। আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, সালিশের নামে আহম্মদ আলী অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু প্রধান আসামি নূরা এরপরও মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন।
নিরাপত্তাহীনতায় মেয়েকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। কিন্তু গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে বরইতলা এলাকা থেকে নূরা ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আশরাফ হোসেন আবারও আহম্মদ আলীকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একটি সরিষা ক্ষেতে মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় মামলা করেন। টানা তিন দিনের অভিযানে এজাহারনামীয় ৯ আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এর আগেই শুক্রবার রাতে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার অন্যতম আসামি মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী দেওয়ানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।