ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডুলি বললেন, ‘আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য’
টমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচটি শেষ হয়েছে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে। তবে নবনিযুক্ত এই আমেরিকান কোচ ম্যাচের ফলাফলে যেমন মুগ্ধ হয়েছেন, তেমনি অন্য একটি বিষয় তার মন কেড়ে নিয়েছে।
শুক্রবার রাতে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোর মাটিতে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ২-১ গোলের স্মরণীয় জয়। এরপর সান মারিনো স্টেডিয়ামে লাল-সবুজের দলকে উৎসাহ দিতে আসা হাজার হাজার বাংলাদেশি সমর্থককে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডুলি। তার মতে, এই জয়ের পেছনে ভক্তদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডুলি লিখেছেন, 'সান মারিনোয় কী অবিশ্বাস্য একটি রাত কাটল!'
'বাংলাদেশের ২-১ গোলের জয় এবং লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও প্রাণশক্তিতে পূর্ণ একটি পারফরম্যান্স।'
'তবে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সঙ্গে থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশি সমর্থককে। আপনাদের উন্মাদনা ছিল অবিশ্বাস্য।'
ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত ও ইতালির নানা শহর থেকে আসা এই প্রবাসী সমর্থকরা ম্যাচজুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। প্রথমার্ধে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মনের হেডে বাংলাদেশ দল এগিয়ে যাওয়ার পর এবং ম্যাচের শেষদিকে তারই জয়সূচক গোলের পর গ্যালারিতে উদযাপনের জোয়ার বয়ে যায়।
ডুলি মনে করেন, পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়রা গ্যালারির এই উন্মাদনা থেকেই প্রাণশক্তি পেয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, 'প্রথম মিনিট থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আপনাদের কণ্ঠ, আবেগ ও অবিরাম সমর্থন দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।'
'কঠিন মুহূর্তগুলোতে আপনারা আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনারা আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। আর তাই, এই জয় আমাদের সবার।'
'খেলোয়াড়রা পুরো ৯০ মিনিট আপনাদের এই সমর্থন টের পেয়েছে এবং এটাই আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।'
সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। আর ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই এই সাফল্য এসেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। পাশাপাশি গত মাসে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কোচ ডুলিরও যাত্রা শুরু হয়েছে জয় দিয়ে।
বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ফুটবল দর্শন নিয়ে ডুলি বলেছিলেন, 'আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, বলের পেছনে ছুটতে নয়।'
সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচে তার সেই কথার প্রতিফলন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নেমেছিল, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় দলে খুব একটা দেখা যায়নি। শারীরিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে রক্ষণাত্মক কৌশলে না গিয়ে সফরকারীরা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায় এবং সুযোগ পেলেই স্বাগতিকদের ওপর চেপে বসার মানসিকতা প্রদর্শন করে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে তপুর জয়সূচক গোলটি মাঠে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাসের জন্ম দেয়, যা ডুলির হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
তিনি সবশেষে লিখেছেন, 'আপনাদের এই আবেগের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ফুটবলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ।'
'একসাথে, আমরা এভাবে অসম্ভবকে জয় করে যাব।'