মুন্সীগঞ্জে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
মুন্সীগঞ্জে তিন বছর আগে শ্যামল বেপারী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩।
আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পেশকার মোহাম্মদ আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁন ও লিটন বেপারীকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের কৌঁসুলি মো. বিল্লাল হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম, হাবিব, ইমরান ও লিটন ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার এজাহার অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ডেকে তোলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আসামিরা শ্যামলকে গুলি করে, পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।
নথি থেকে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোন করে শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারীকে ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। এর একদিন পর (১৫ জুন) ইব্রাহিম মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরের বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে জমা দেয়। সেখান থেকে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার বিচার চলাকালে ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।