আদালতে যা বললেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুরে ফার্নিচার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।
শুনানিতে আদালতে মামুন খালেদের বক্তব্য
শুনানির সময় মামুন খালেদ আদালতকে বলেন, ‘আমি ২০০৭ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে যোগদান করি, যারা মূলত যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করে। সেখানে জুলাই পর্যন্ত কাজ করার পর আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জনাব তারেক রহমানের যতগুলো মামলায় জামিন হয়েছিল, সেই প্রত্যেকটি জামিনের ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বিচারকের কাছে টেলিফোন করতাম। আমাদের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতো।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে নজরুল সাহেবের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা আছে। জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া আমাকে এই টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যা তিনি ফেসবুকে উল্লেখ রয়েছেন। মামুন খালেদ সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে।’
‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি দুই থেকে তিনবার গুম কমিশনের সামনে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো অভিযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মতিউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাকিম স্যারকে আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন; ওই সময়ে আমাদের যে শাখাটি ছিল (যা পরবর্তী সময়ে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে), সেখানে কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে শেখ হাসিনার সময়ের সাতজন ডিজিএফআই প্রধানের মধ্যে পাঁচজনই বিদেশে আছেন। আমি দেশেই আছি। আমি যদি কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতাম, তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে আসতাম না। আমার মেয়ে পিএইচডি করছে, তাকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি জুলাই মাসে বিদেশে গিয়েছিলাম এবং পুনরায় ফিরে আসি। আমার মনে যদি কোনো ধরনের সংশয় বা ভয় থাকত, তবে আমিও অন্যদের মতো বিদেশে থেকে যেতে পারতাম।’
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিইউপি-এর চার বছর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার হাত ধরেই এখানে ১৭টি বিষয় এবং ৫টি অনুষদ চালু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যদি ছাত্ররা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের উপাচার্যের মাধ্যমেই অনুপ্রাণিত হয়েছে।’
গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, আমি তখন একজন সাধারণ বেসামরিক ব্যক্তি। আমি ডিওএইচএসেই ছিলাম। আমার বাসায় একটি ছোটখাটো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে এবং আমি সেটির চেয়ারম্যান। আমাদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ হচ্ছে কালশী উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার), মিরপুর-১০ এর পথে আমাদের যাওয়ার কোনো কারণ বা প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং, আমাকে রিমান্ডে বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’