৫ মামলায় খায়রুল হকের জামিন আপিল বিভাগে বহাল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ৮ ও ১১ মার্চ পৃথক রায়ে জামিন মঞ্জুর করেছিলেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পাঁচটি পৃথক আবেদন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছেন।

তবে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ, তিনি আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. কামরুল হক সিদ্দিকী ও মোতাহার হোসেন সাজু। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবদুল জব্বার ভূঁইয়া।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মার্চ খায়রুল হককে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট।

মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হক এবং রাজউকের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক।

চলতি বছরের ৮ মার্চ হাইকোর্ট অন্য চারটি মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন।

এই চারটির মধ্যে একটি মামলা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদকে হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত বছরের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা করেন, যেখানে খাইরুল হকের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় নূরুল ইসলাম মোল্লা এবং আব্দুল বারী ভূঁইয়া একই ধরনের অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করেন।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বেই ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।