৩ জেলায় ৪ জনকে হত্যা, দিনাজপুরে তরুণের মরদেহ উদ্ধার
দেশের ৪ জেলায় আজ মঙ্গলবার পৃথক ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা গ্রামের একটি শালবাগান থেকে সকালে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. রাসেল (২২) ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকালে কয়েকজন গ্রামবাসী শালবাগানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম সেখানে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওসি সাইফুল বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনে রাসেলের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন এবং ওই স্থান থেকে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বাম পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ বলেন তিনি।
খুলনা
খুলনা শহরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা এক তরুণকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত মো. রাশেদ কাজী (২০) স্থানীয় এক প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী ও লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর স্কুলভিটা এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইয়েদ মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহত যুবক লবণচরা থানায় করা একটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন।’
‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে,’ বলেন তিনি।
নিহতের বাবা আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ইমরান ও সুমনসহ একটি মাদক চক্র এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমার ছেলে এলাকায় এ চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। প্রতিশোধ নিতে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’
চাঁদপুর
চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের উত্তর শ্রীরামদি যমুনা রোড এলাকায় কিশোর মুসা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ১৪ বছর বয়সী মো. ইয়াসিন নিহত হয়। সে ওই এলাকার ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। আমরা মুসাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃধা বাড়িতে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত ওমর ফারুকের (২৭) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
ওসি নাজমুল বলেন, ‘ছোট লক্ষ্মীপুর মৃধা বাড়ির আব্দুল আউয়াল মৃধা ও হাসু মৃধাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার পর আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’
ময়মনসিংহ
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার সন্ধ্যায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা বড় ভাই মঙ্গলবার ভোরে মারা গেছেন।
নিহত আবদুল বাছেদ (৩৫) পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর হাসাদিয়া গ্রামের মৃত আছর আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মো. রাশেদুল (২৫) তার ছোট ভাই।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছোট ভাই পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।