সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আজ মঙ্গলবার স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর সঙ্গে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন ধার্য করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, মো. আরশাদুর রউফ এবং অনীক আর হক। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত ২১ মে হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আপিল বিভাগে আপিল আবেদনটি দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আপিলে বলেছে, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি ত্রুটিপূর্ণ। এই অনুচ্ছেদ নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করেছে। অথচ হাইকোর্ট ১১৫ অনুচ্ছেদকে (যা রাষ্ট্রপতিকে নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়) অসাংবিধানিক ঘোষণা করেননি।
আপিলে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিজেই একটি অপরিহার্য ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে রাষ্ট্রপতির জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করার বিধান রাখা হয়েছে, যা অধস্তন আদালতের প্রশাসনিক বিষয়ে বিচারবিভাগের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে রায় দেন।
রায়ে সরকারকে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদায়ন ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করার পর বিচার বিভাগকে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন করার লক্ষ্যে ডিসেম্বরের শুরুতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন।
১৯ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে, যেন পরে তাদের যোগ্য পদে পদায়ন করা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে তাদের অপসারণ ও বদলির আদেশ ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর দেখানো হয়।