লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ঘাতককে ধাওয়া করে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারটির আদি বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা বেশ কয়েক বছর ধরে রায়পুরের ওই বাসায় ভাড়া ছিলেন। কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসাতেই থাকতেন শাহীনুর।

লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার মুখেও পড়তে হয় পুলিশকে। স্থানীয় লোকজনের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ছয়-সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

স্থানীয়রা জানান, আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। ঘাতক অন্তর মজুমদার পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ইকরা ও শিফার মৃত্যু হয়। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মা। তাদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পরই তিনি মারা যান।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা অন্তর মজুমদার নামের ওই যুবক ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আজ বেলা পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করেন এবং মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘাতক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে গণপিটুনি দিলে তিনি মারা যান।