ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ঠাকুরগাঁওয়ে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অপর ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় দেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার গোয়ালপাড়া এলাকার মো. আনিস রানা, একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম ও মুসলিমনগর এলাকার মো. দুলাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুসলিমনগর এলাকার মো. আনিছুর ওরফে রানা, মো. খতিবুর ওরফে খাতু ও মো. লালু।
রায়ে বলা হয়, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা সাজা মওকুফের সুযোগ পাবেন না। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হেফাজতে কাটানো সময়ের রেয়াত পাবেন এবং আইন অনুযায়ী সাজা মওকুফের জন্য বিবেচিত হবেন।
রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক রয়েছেন মো. আনিছুর ওরফে রানা।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সদর উপজেলার একটি গ্রামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর মেয়েটির বাবা ২৪ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রায় ১৫ বছর পর আদালত তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দিদার আলী বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।