স্কুলশিক্ষার্থী-যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও এক যুবককে স্কুল প্রাঙ্গণে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) নাফিছুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার নয়ন গোলদার (৪৫) হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ কর্মকর্তা নাফিছুর রহমান জানান, গতকাল শনিবার ভোরে তাকে আটক করা হয়। নির্যাতনের শিকার যুবক সূর্য বাড়ৈর বাবা শিবনাথ বাড়ৈ রোববার কাশিয়ানী থানায় মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে ওই শিক্ষার্থীকে রাহুথড় বড়ব্রিজ এলাকা থেকে ও সূর্য বাড়ৈকে নিজের বাড়ি থেকে ডেকে রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এসময় অভিযুক্তরা ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সূর্যকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে দুজনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সূর্যের মামা অপূর্ব মণ্ডল অভিযুক্তদের বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাদের ছাড়া হয়।
এএসপি নাফিছুর ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি পুলিশ প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেনি। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান শুরু হয়। ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও প্রধান অভিযুক্ত নয়ন গোলদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগের কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বাদী শিবনাথ বাড়ৈ বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি পাট কাটার কাজে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পারি, বাড়ির সামনে থেকে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে এখন বাড়িতে নেই, আমার সঙ্গেও যোগাযোগ করছে না।’
তবে, ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। পরে অফিসে এসে দেখি নয়ন গোলদার এক ছাত্রী ও এক যুবককে বসিয়ে রেখেছেন। আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাই এবং অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
যোগাযোগ করা হলে কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রেপ্তার নয়ন গোলদার আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখন তিনি কমিটিতে নেই। নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে, আমরা চাই এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।'