যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানে একটি ফাস্ট ফুড দোকানে কাজ করতেন।
নিহত মো. ইউছুফ আলী রাজু (৪৪) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার ১০ নম্বর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংসনগর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
গত শনিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল মহল্লার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউতে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের ২৩ আগস্টের প্রতিবেদনে ঘটনার সময় শনিবার দিবাগত রাত ১২টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের দোকান মালিক আব্দুল জলিল (৩৫)-এর বরাত দিয়ে তার বড় ভাই আমিশাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম স্বপন রোববার রাত ১টার দিকে দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল করিম স্বপন আরও জানান, গত এক বছর ধরে মো. ইউছুফ রাজু তাদের ফাস্ট ফুডের দোকানে চাকরি করে আসছেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজু এবং অপর এক কর্মচারী দোকানে ছিলেন।
রাজু কিচেন রুমে কাজ করছিলেন এবং অপর কর্মচারী ক্যাশে বসা ছিলেন। হঠাৎ এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় অপর কর্মচারী তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসলে তিনিও গুলির আঘাত পান।
রাজুর বুকে এবং তার সহকর্মীর পায়ে গুলির আঘাত লাগে।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানান আব্দুল করিম স্বপন।
তিনি আরও জানান, নিহত রাজুর বাড়ি এবং তাদের বাড়ি পাশাপাশি। তিনি তাদের আত্মীয়ও।
বাড়িতে তার ৮০ বছর বয়সী বাবা, স্ত্রী এবং ১০ ও ৫ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশু রয়েছে।
পরিবারের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহত রাজুর পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ শ্বশুর ও দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন, সে চিন্তায় চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন রাজুর স্ত্রী।
আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছেন।
তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার তার মরদেহ দেশে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
সিবিএসের প্রতিবেদনমতে, ওই রেস্তোরাঁটি ভোর ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
পুলিশ এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ করছে।

