আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা

আদালতে আপসনামা, এমপি গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই মরিয়মের বাবার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীর জামিনে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মৃত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামি পক্ষের একটি আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামি গাজী নজরুলের আইনজীবী মিফতাহুর রহমান।

আজ বুধবার আদালতে আপসনামাটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে এক উপপরিদর্শক (জিআরও) দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টার আপসনামাটির একটি কপি পেয়েছে।

এতে বলা হয়, আসামি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর হলে বাদীপক্ষের বা পরিবারের কোনো সদস্যের কোনো আপত্তি থাকবে না।

এতে আরও বলা হয়, দুই আসামি জামিন পেলে উভয়পক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবে।

এতে বলা হয়, উভয়পক্ষ বিচারাধীন বিষয়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকবে এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ এবং সাতক্ষীরার বাসিন্দা মো. আবদুল হালিম মোড়ল এই আপসনামায় সই করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মিফতাহুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আবদুল হালিম সম্পর্কে এমপি গাজী নজরুলের শ্যালক হন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধারের ১০ দিন পর এই আপস-মীমাংসার খবর প্রকাশ্যে এলো।

ঢাকার চিফ অ্যাডিশনাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আজ জামিন আবেদনের শুনানি শেষে মাকসুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

তবে, সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়নি বলে জানান আদালতের এক কর্মচারী।

দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

ঘটনার রাতেই গাজী নজরুলকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালতে তার ৪ দিনের ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা প্রায়ই মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মরিয়ম টেলিফোনে একাধিকবার তার পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

এর আগে, গাজী নজরুল ও মরিয়মের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই ‘নৈতিক অসদাচরণের’ কথা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ভিডিওটি ফাঁস করার জন্য ওবায়দুরকে দায়ী করেন নজরুল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত ২১ জুলাই নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ওবায়দুর।

১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে এ মামলায় ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান গাজী নজরুল।