ধরলা সেতুর ৪১টি বাতির একটিও জ্বলে না

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে কবির মাহমুদ গ্রামে ধরলা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা ধরলা সেতুতে ৪১টি বৈদ্যুতিক বাতির সবকটি নষ্ট হয়ে গেছে।

২০১৮ সালের ৩ জুন লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গমারী সড়কে ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর ওপর সেতুটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয়রা জানান, সেতুটি উদ্বোধনের পরের দুই বছর বৈদ্যুতিক বাতিগুলো জ্বললেও এরপর থেকে সেগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ায় রাতের বেলা সেতুটি অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে।

শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি এলজিইডি নির্মাণ করলেও সেতুটি সেতুটি এখনো এলজিইডির গেজেটভুক্ত না হওয়ায় অকেজো বৈদ্যুতিক বাতিগুলো সংস্কার করতে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি'র ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেতুটি এলজিইডির গেজেটভুক্ত করার জন্য ৭ মাস আগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি কিন্তু এখনো কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি এলজিইডির গেজেটভুক্ত হলে আমরা সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবো।'

এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে, ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থ শেখ হাসিনা ধরলা সেতু নির্মাণ করতে ব্যয় করা হয়েছে ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। বাকি ৭৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে নদী শাসন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণে।

সেখানকার বাসিন্দা আহাদ আলী (৬০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেতুটি উদ্বোধনের পর প্রতি রাতে সেতুটি বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে আলোকিত থাকতো। প্রায় দুই বছর বাতিগুলো জ্বলতো। দেখতে খুব ভালো লাগতো। সেতুর ওপর কোনো অন্ধকার ছিল না। ভ্রমণকারীরা রাতের বেলাতেও সেতুর উপর অবস্থান করতেন। কিন্তু এখন সেতুটি রাতে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে।'

স্থানীয় ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের চালক সুলতান হোসেন বলেন, 'রাতের বেলা সেতুটিতে পুরোপুরি অন্ধকার থাকে। সেসময় গাড়ি নিয়ে চলতে ভয় লাগে। সেতুর মাঝখানে ঘুটঘুটে অন্ধকারে বিপদে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।'