সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রতিবেদককে মারধর, শ্যামনগর থানার সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পত্রদূতের শ্যমনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং মুন্সিগঞ্জ কলেজের সহকারী অধ্যাপক সামিউল মনিরকে মারধর করা হয়। তার ওপর হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শ্যামনগর থানায় অবস্থান করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এ সময় তারা শ্যামনগরে নদ-নদীতে বালু উত্তোলনকারী যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলামসহ সামিউল মনিরের ওপর হামলায় জড়িত ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা চলে যান।
আহত সামিউল মনির শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত অভিযোগে শ্যামনগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান ও বিএনপি সমর্থক আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, আজ দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান, মিজানুর রহমান, মোতালেবসহ ২৫-৩০ জন প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, সামিউলের মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-জামায়াতের যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে সামিউলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, ‘রোববার এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলছিল। এ সময় সামিউল মনির তাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এতে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়।’
তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন স্বীকার করে বলেন, ‘জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি।’
এ ঘটনায় প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আগামীকাল সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।